বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের প্রতিবাদী কণ্ঠ ইশরাত নিশাতের প্রথম প্রয়াণ দিবস ২০ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’ প্রকাশ করেছে বিশেষ স্মরণ সংখ্যা।
প্রয়াণ দিবসে নিশাতের দ্রোহী চেতনাকে স্মরণ করতেই সংখ্যাটি প্রকাশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সম্পাদক পাভেল রহমান।
এ সংখ্যায় লিখেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শিমূল ইউসুফ, মলয় ভৌমিক, হাসান আরিফ, মাসুম রেজা, শিমুল মুস্তাফা, হাসান শাহরিয়ার, শুভাশিস সিনহা, প্রশান্ত হালদার, অনন্ত হিরা, ইউসুফ হাসান অর্ক, নূনা আফরোজ, শামীম সাগর, সাইদুর রহমান লিপন, নাজনীন হাসান চুমকি, বন্যা মির্জা, তিতাস রোজারিও, জ্যোতি সিনহা, সামিউন জাহান দোলা ও সাইফুল জার্নাল।
ক্ষ্যাপা’র নির্বাহী সম্পাদক অপু মেহেদী বলেন, “সংখ্যাটির মধ্য দিয়ে আমরা মূলত ইশরাত নিশাতকে স্মরণ করতে চেয়েছি। অনেকের লেখার মধ্য দিয়ে ইশরাত নিশাতকে এবং তার কর্মযজ্ঞকে বুঝতে সংখ্যাটি সহায়ক হবে। তার দ্রোহী চেতনা আমাদের নাট্যচর্চায় শক্তি জোগাবে।”
ইশরাত নিশাতের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২৬ আগস্ট, ঢাকায়। তার বাবা আবুল কালাম, মা মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ার।
নাজমা আনোয়ার কাজ করতেন আরণ্যক নাট্যদলে। সেই সূত্রে মায়ের অনুপ্রেরণাতেই ইশরাত নিশাতের থিয়েটারে আসা। ১৯৮৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরণ্যকে যুক্ত হন। এ দলের অন্যতম প্রযোজনা মামুনুর রশীদের রচনা ও নির্দেশনায় ‘গিনিপিগ’ দিয়ে তার মঞ্চ অভিনয় শুরু হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে অভিনয় করেন ‘অববাহিকা’ নাটকে।
১৯৮৭ সালে ইশরাত নিশাত ও সমমনা কয়েকজন মিলে গঠন করেন দেশ নাটক। এ দলের বিরসা কাব্য, ঘরলোপট ও দর্পণে শরৎশশী এই তিনটি নাটকে ইশরাত নিশাত অভিনয় করেন এবং লোহা ও অরক্ষিতা নাটক দুটির নির্দেশনা দেন।
থিয়েটারের পাশাপাশি নিশাত আবৃত্তির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির আয়োজনে বাচিক শিল্পী হিসেবে ৬টি আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন; যার প্রতিটির অডিও ক্যাসেট পরবর্তীতে শ্রোতানন্দিত হয়।
২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে গুলশানে বোনের বাসায় মারা যান ইশরাত নিশাত।
ক্ষ্যাপার নতুন সংখ্যাটির বিনিময় মূল্য ১০০ টাকা। ঢাকার বিভিন্ন বইয়ের দোকান ছাড়াও অনলাইনে বই কেনার প্ল্যাটফর্ম কানামাছি ডটকমে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ০১৭১৭ ৩৮৬৬৪৬ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করেও কেনা যাবে।
থিয়েটার পত্রিকাটির প্রচ্ছদ ও শিল্প সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন শাহনাজ জাহান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় ও মাহফুজ সুমন। সম্পাদনা সহকারী সুমন মাহমুদ এবং অলংকরণ ও প্রিন্টিং ব্যবস্থাপনা পিয়ার মোহাম্মদ। আর মুদ্রিত হয়েছে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান পোস্টার থেকে।
