অমর একুশে বইমেলায় কৌতূহল তৈরি করেছে- ১১২০১৮৫০২৪৬০১২৩০১৯৪০২১৭০’ শিরোনামে কবি নির্মলেন্দু গুণের নতুন কবিতার বই। সংখ্যা দিয়ে কাব্যগ্রন্থের নামকরণ আগে কখনো হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নও অনেকের। বইটি প্রকাশ করেছে চিরদিন।
কাব্যগ্রন্থটির নামকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কবি নির্মলেন্দু গণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংখ্যার তো অবশ্যই মানে আছে। মোবাইল নম্বরের শুরুতে যেমন তিনটি সংখ্যা থাকে এবং সেটি দিয়ে ওই মোবাইল কোম্পানিকে চেনা যায়। আমিও যে সংখ্যাগুলো দিয়ে বইটির নামকরণ করেছি। তারও মানে আছে। আমি আসলে একটু রহস্য রাখতে চেয়েছি। আমি চাই, পাঠক এই রহস্য উন্মোচন করুক। পাঠক ভাবুক, চিন্তা করুক। আর যারা আমাকে সহজবোধ্য কবি মনে করেন, তাদের জন্য এই বইটির নামকরণ হচ্ছে শাস্তি।’
৫২ বছর আগে নিজের বইয়ে প্রথম ছবি ব্যবহার করেছিলেন উল্লেখ করে নির্মলেন্দু গুণ বলেন, ‘তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু এখন অনেক বইয়ে ছবি ব্যবহার করা হয়। এখন তো ছবি ব্যবহার রীতিমতো অত্যাচারের পর্যায়ে চলে গেছে।’
নির্মলেন্দু গুণ বলেন, ‘এবারও একটু ভিন্নভাবে ভেবেছি। পাঠক আমার ভাবনার সঙ্গে কতটা মেলাতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই সংখ্যাগুলোর অর্থ পাঠক তার মতো করে ভাবার স্বাধীনতাও আছে। আমি যে ভাবনা থেকে লিখেছি, সেটা নাও মিলতে পারে। কবিতার কয়েকটা স্তর থাকে তো, যার মধ্যে একটা স্তর হলো সহজবোধ্য। যেখানে পাঠক সহজেই বুঝতে পারে। আবার আরেকটা স্তর আছে, যেখানে পাঠক সহজে প্রবেশ করতে পারে না। সেই স্তরে যেতে চাইলে, পাঠককে কবিতার অর্থ উদ্ধার করতে হয়। আমাকে অনেকেই মনে করেন সহজবোধ কবিতা লিখি। তাদের জন্য এটা এক ধরনের শাস্তি। তারা ভাবুক, সংখ্যাগুলোর মর্মার্থ উদ্ধার করুক, তারা চিন্তা করুক।’
