শারমিন সুলতানা সুরভীর একগুচ্ছ কবিতা

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ০১:৩১ পিএম

মিস করছি  খুব

 

গলাটাতে খুব গম্ভীরতা ছিল,

কথাগুলো  খুব আস্তে বলছিলে,

কিন্তু  ছিল  খুব তীব্রতা ।

আমি শুনছিলাম, কান পেতে

মুঠোফোনে।

বার বার একটা  কথাই ভেসে আসছিল,

মিস করছি খুব

মিস করছি,  তোমাকে।

আমি বেশ বুঝতে  পারি,

ভাল নেই তুমি।

কত দূরে  তুমি, কত মাইল হবে।

এখন  এখানে সব বন্ধ করে দেয়া।

অচল হয়ে আছে সব।

আর গৃহবন্দী  আমরা।

এক ঘাতক  ভাইরাস  ঘোরাফেরা  করছে  সর্বত্র।

সারাবিশ্ব  যেন থামকে  গেছে।

তুমি একা ওখানে, এখানে এখন দিব্যি  সকাল ওখানে তোমার  ভীষণ  রাত।

তোমাকে  নিয়ে ভীষণ  ভয় হয়  আমার।

খুব বেশি একা তুমি,  ভীষণ একা।

তবুও,  আমি খুব হেসে বলি, দেখ আমাকে ছাড়া  কেমন লাগে।আর কখনো একা রেখে যাবে।

কথা ছিল এবার আমরা ঘর বাধবো।

এতদিনের  প্রতীক্ষার শেষ  হবে অবশেষে।

 

কিন্তু  কেমন  উলট পালট সব।

কী এক অজানা  ভয় করছে বসবাস। দেখা হবে ত , আমি প্রতীক্ষায়  আছি,

তুমি আসবে বলে।

সুন্দর পৃথিবীর, সব কেটে যাবে দুঃসময়।

 

ভালোবেসেছিলাম

 

তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।

 ভালোবেসেছিলাম তোমার সবকিছু,

 ভালোবেসেছিলাম তোমার কথা,হাসি

 তোমার উচ্ছলতা, তোমার দুষ্টুমি।

 তোমার খুনসুটি,তোমার হাটা চলা সব।

 তোমার অভিমান করে গাল ফোলানো।

 তোমার ঔদার্য, তোমার সরলতা।

 কিছুই ভাবিনি তুমি ছাড়া।

 তুমি ছিলে আমার দিন রাত

 আমার জগৎ।

 বড্ড বেশি বেশি ভালোবেসেছিলাম

 ভালোবাসার বাড়াবাড়ি ছিল।

 বুঝতে পারিনি কখনো  কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

 এখন তুমি অন্যমানুষ, তোমার কথা

হাসি,চলাফেরা  সবকিছু আমি চিনি না।

 তোমার এখন অভিমান হয় না রাগ হয়।

 এখন তোমার রাগ হয়না জেদ হয়।

আমার এই অবুঝ  ভালোবাসার জন্য,

এখন আমি কাঠগড়ায়।

 আমার ভালোবাসা আজ স্বার্থপরতার নাম পেয়েছে।

 আমি আর তোমাকে বুঝতে পারি না।

 আমি তোমাকে পেয়ে, নিজেকে  ভুলেছিলাম।

 আজ আমি পথভ্রষ্ট, আমি ফেক।

 আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

 ক্ষমা করো আমায়, অচেনা পথিক।

আজ তুমি অন্যমানুষ।

 আমার ভালোবাসা, আজ তোমাকে দূরে ঠেলে  দিয়েছে।

আজ তুমি অপরিচিত।

এভাবেই আমি কখন যেন

 নিঃস্ব হয়ে গেছি।

আর পাশে থেকেও তুমি  অনেক অনেক দূরে।

ধন্যবাদ ভালোবাসা ধন্যবাদ তোমাকে।

 

সত্তা

 

তুমি আমার অস্তিত্বে মিশে আছ।

আমার অন্য এক সত্তা,

আমার হাসিতে, আমার কথাতে, আমার অভিমানে।

আমি যত দূরেই যাই,

তুমি হাত বাড়িয়ে দাও,

পাশে এসে দাঁড়াও।

আমার কষ্টে কেঁদে  একাকার হয়ে যাও।

আমি ঘুরি ফিরি যত দূরেই যাই,

 

তুমি নিঃশব্দে আমার পাশে থাক, কাছে থাক।

ফিসফিসিয়ে বল, আছি আমি।

ভুলি না তোমায়,

ভোলা হয় না,

ভোলা যায় না।

মনের অগোচরে আমাকে,

পথ দেখিয়ে নিয়ে যাও,অচিনপুরে।

অজানার উদ্দেশ্যে,

 

খুব সন্তর্পণে  চুপিসারে, তুমি থাক আমার মাঝে।

অন্য রূপে, এ তুমি না অন্য কেউ।

যে কাউকে দেয় না অধিকার,

আমাকে কাঁদাবার।

আমি লুকিয়ে  রাখি তোমাকে,

খুব গোপনে  খুব যত্নে।

 

কষ্টের সাথে সখ্য

 

কষ্ট গুলারে বন্দী  করলাম  খাঁচায়,

 

সুখগুলোরে রাখলাম কাছে, ভালোবাসলাম লালন করলাম, ওরা তাও ছটফট  আনচান করে,

বাধনে বাধতে চায় না রে।

 

আর কষ্টগুলা ফুইলা ফাইপ্পা বড় হয়,

পাখির মতো  ডানা মেলবার চায়।

লাল নীল রঙ হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

 

আমি কষ্টরে কইলাম, তোরা জাগা,

 কষ্ট কইল, ‘তোর সুখগুলানরে দে।’

 

আমি বললাম, ‘আমার একটুসখানি সুখের লইগা

 জান বাজি, তোরা! কি করবার কর?’

 

এমন  করেই কখন যেন কষ্টরে আপন কইরা নিসি, বন্ধুত্ব করসি ওদের লগে।

ওরা, এখন আমার সাথে খেলা

করে, লুকোচুরি খেলা।

 

এখন আর কাঁদি না  সুখ সুখ  করে।

জানি সুখগুলান আসে কষ্ট দেওনের লগে।

 

নাগরিক ক্লান্তি

 

বড় হাঁপিয়ে যাই আজকাল।

খুব ক্লান্ত  লাগে, অবচেতন  মন শুধু  ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস।

শহুরে  জীবনের  নাগরিক  ক্লান্তি।

ইট পাথরের দেয়াল যেন বন্দী  কারাগার।

গুমোট বাতাস, বুক ভরে নেয়া যায় না নিশ্বাস।

একটু যদি মন চায় কোথাও আসি ঘুরে,

আবার ও সেই ঘর থেকে ঘরে, পরে যাই ইট পাথরের  জঞ্জালে।

কোলাহল শুধুই, নীরবতা  কোথাও  না মিলে।

সব ভিড়  কোলাহল  ছাড়িয়ে,

চাই বেহিসেবি  অবসর।

অবশেষে  ফেরি করে গাড়ি  ধরে যাই বহুদূরে।

 

যেখানে  মাটির  সোঁদা গন্ধ মিলে।

কখনোবা  হয়ে যাই গ্রাম্য চঞ্চল  কিশোরী,

হেঁটে যাই ওই মেঠো পথ ধরে।

শুকনো  ঝরা পাতাগুলো  সেখানে

মচমচিয়ে সুর তোলে।

শীতে জবুথবু  যখন, খড়কুটো  জ্বালিয়ে  দেই আগুনে।

 আর দুপুরের  রোদ্দুরে  উঠানে বসে  থাকি ওমে।

কখনো  বা আমি শান্ত গৃহবধূ  যেন, উনুনের পাশে বসে মুখ ঢাকি আঁচলে।

নকশি পিঠার খাঁজ কাটি কাঠিতে।

সকালের ঘুম ভাঙে  কবুতর, বাবুই,  চড়ুই বা শালিকের কিচিরমিচির ডাকে।

বুকভরে শ্বাস নেই তরতাজা  হিমেল হাওয়াতে।

চোখ জুড়িয়ে যায় যেদিকে তাকাই, হলুদের ছোয়াতে।

 

শেষ হয় অবসর, ডেকে যায় শহুরে জীবন।

ঘরে ফেরার তাড়া।

ফেলে আসি ছিমছাম নীরব আবার কখনো সরব, গ্রামের মেঠো পথ।

থেকে যায় তার কিছু রেষ তাই নিয়েই থাকি কিছুটা  সময় বেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত