বাংলা কবিতা থেকে নাটক— বাংলা সাহিত্যের দ্যুতিময় চরিত্র মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ইতিহাসের অন্যতম ট্রাজিক কবিও তিনি। এই মহাত্মার স্মরণে ছোটকাগজ ‘উত্তম নাট্যভাষ’ প্রকাশ করলো ‘মধুসূদন দত্ত সংখ্যা’।
উত্তম সিংহ রতন সম্পাদিত এই সংখ্যায় মহাকবি মধুসূদনকে নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ২২ জন বিশিষ্ট লেখক। ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত হয় এই ছোটকাগজ। সংখ্যাটির দাম রাখা হয়েছে ৩০০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন জী. অনিমেষ শর্ম্মা।
সম্পাদকীয় উঠোন পেরোনোর পর মহাকবির স্মরণে রাজন দাশের কবিতা দিয়ে শুরু উত্তম নাট্যভাষের প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যার এই আয়োজন। বাংলা নাটকে মধুসূদন দত্তের অবদান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন দুই কৃতিমান অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আতাউর রহমান ও মামুনুর রশীদ।
বাংলা কবিতায় মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে সব সময়। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এই মহাকাব্যের বৈপ্লবিক চেতনা ভিন্ন মাত্রা এনেছিল সাহিত্যে। দেড়শ’ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো রয়ে গেছে তার প্রাসঙ্গিকতা। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন লমাবম গোজেন্দ্র, তপন বাগচী ও মানচিত্র পাল।
আমাদের দেশে ছোটকাগজের সংখ্যা এমনিতে কম। তার মধ্যে নাটক ও থিয়েটার বিষয়ক কাগজের সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা। এই অপূর্ণতা দূর করতে ‘উত্তম নাট্যভাষ’ প্রকাশের উদ্যোগ। সম্পাদকীয়তে খেদোক্তির পাশাপাশি এমন আশার কথা উত্তম সিংহ রতনের। নাট্যজন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষকে নিয়ে এমন সংখ্যা প্রকাশের ধারা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের বটে, তবে তা নিয়মিত প্রকাশ করা গেলে বেশ উপকার পাবে আগ্রহী পাঠক।
‘উত্তম নাট্যভাষ’ প্রথম সংখ্যায় মধুসূদন দত্তকে বেছে নেওয়ার কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে, ‘মহান সৃষ্টিকে সবার জ্ঞাতার্থে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান ও অন্যতম উদ্দেশ্য। এরূপ উদ্দেশ্যের প্রারম্ভে বেছে নেওয়া হয়েছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাশয়ের অনবদ্য নাট্যসৃষ্টির মাহাত্ম্যকে।’
কারণটা অবশ্য অমূলক নয়। মাইকেলের হাত দিয়েই রচিত বাংলার প্রথম সার্থক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’। তেমন অনেক ‘প্রথম’-এর সঙ্গে জুড়ে আছেন তিনি। প্রথম প্রহসন, প্রথম বিয়োগান্তক নাটক, প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে মহাকাব্য, প্রথম পত্রকাব্য, প্রথম সনেট— মাত্র ৪৯ বছর বয়সে সাহিত্যের কোথায় হাত রাখেননি তিনি! এমন আশ্চর্য প্রতিভা বাংলায় তো বটে, বিশ্বেও বিরল।
‘উত্তম নাট্যভাষ’ গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টা করেছে তার কিছু মূল্যায়নের। এই সংখ্যায় প্রাসঙ্গিকতার কারণে পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে সনৎ কুমার মিত্রের ‘শেকস্পীয়র ও বাংলা নাটক’ গ্রন্থ থেকে ‘মাইকেলের নাটকে শেক্সপিয়রের প্রভাব’ নামের লেখাটি। এছাড়া গোলাম মুরশিদের ‘মধুর খোঁজে’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ‘মাইকেল জীবনের কালপঞ্জি’।
মহাকবি মধুসূদন দত্তকে নিয়ে আগ্রহী পাঠক উত্তম নাট্যভাষের সংখ্যাটি সংগ্রহ করতে পারবেন বাতিঘর (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট) শাখা থেকে। এছাড়া কলকাতায় পাওয়া যাবে ভাবনা জংশন ও ত্রিপুরা বাণী প্রকাশনীতে।
