বিশ্বজুড়ে বিক্রির তালিকায় শীর্ষে অবস্থানকারী বইগুলোর অন্যতম গবেষণামূলক গ্রন্থ স্যাপিয়েন্সের ইসরায়েলি লেখক-গবেষক ইউভাল হারিরির জ্ঞানের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি হারিরির সমালোচনা করে বিহ্যাভিয়ারিয়াল নিউরো সায়েন্টিস্ট দর্শন নারায়ণ বলেছেন, ‘বিজ্ঞানকে চটকদারির কাছে বলি দিয়েছেন তিনি, তার লেখা ভুলে ভরা।’
৪৬ বছর বয়সী হারিরির লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আরও রয়েছে স্যাপিয়েন্সের পরবর্তী কিস্তি, হোমো ডিউস: এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টুমরো। এই দুইটি বই মিলে মানুষের বিবর্তন, দর্শন, জীববিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং মানুষের আচরণের সাথে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে একটি নতুন ধরনের আলোচনা সৃষ্টি করতে সমর্থ হন হারিরি। বিশেষ করে ২০১১ সালে প্রকাশিত স্যাপিয়েন্সের জন্য সারা বিশ্বেই বহুল আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন তিনি।
স্যাপিয়েন্সে হারিরি মানুষের অতীত ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, আর পরবর্তী বইয়েতে মানুষের ভবিষ্যতের কথা বলার চেষ্টা করেছেন।
হারিরির ভক্তরা মনে করেন, স্যাপিয়েন্স পড়ে শেষ করতে পারলে, আপনি নিজেকে আরও বুদ্ধিমান মনে করা থেকে বিরত হতে পারবেন না। ৬৫ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে বইটি। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ থেকে শুরু করে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এই বইয়ের প্রশংসায় উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন।
তবে নারায়ণের মতে, তুখোড় গল্প-বলিয়ে হারিরি জনপ্রিয়তার গড্ডালিকায় বৈজ্ঞানিক সত্যকে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক শিক্ষাবিদদের সংগঠন সোশ্যাল থটের সাবেক সদস্য জন সেক্সটনের মতে, স্যাপিয়েন্স মোটেও এতটা প্রশংসা ও মনোযোগ পাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো বই নয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে পিএইচডি করা হারিরি এখন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করেন। বলাই বাহুল্য, বিতর্কিত একটি চরিত্র হয়েই রয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা হারিরির বিভিন্ন বক্তব্য এবং বইয়ে মারাত্মক সব ভুলও খুঁজে পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্যাপিয়েন্সের কথা। এখানে হারিরি উল্লেখ করেছেন, জঙ্গলের জীবনে পিছিয়ে থাকা মানুষের সর্বদাই নানারকম ভয়ভীতি আর নিজের অবস্থান হারিয়ে ফেলার উদ্বেগ রয়েছে। আর সে কারণেই মানুষ দ্বিগুণ নিষ্ঠুর এবং ভয়ংকর। তবে জীববিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানীসহ অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, লাখ লাখ বছর আগেকার অনুভূতি কোনো প্রজাতির সামগ্রিক স্মৃতিতে (কালেকটিভ মেমোরি) থাকা সম্ভব নয়। বিবর্তনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া এড়াতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো আচরণও করে না তারা।
হারিরি আরও বলেছেন, আফ্রিকা থেকে স্থানান্তরের কারণেই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তবে স্যাপিয়েন্স প্রকাশিত হওয়ার অনেক আগেই এই ধারণা বাতিল করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এই বছরের শেষের দিকে আনস্টপেবল আস নামে শিশুদের জন্য নতুন একটি সিরিজ প্রকাশ করতে যাচ্ছেন হারিরি।
সূত্র: দা প্রিন্ট ডট ইন, অ্যাফেয়ার্স ডট অরগ।
