বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সম্প্রতি জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৭) অংশ নিয়ে মিসর থেকে দেশে ফিরলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এই সম্মেলনের বৈশ্বিক এবং বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের একজন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী হিসেবে সদ্যসমাপ্ত কপ-২৭ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান : কপ ২৭ বেশ উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। কারণ পৃথিবীব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা, ব্যাপকতা, ভয়াবহতা বেড়ে গিয়েছে। আমাদের দেশেই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা দেখেছি; পাশের দেশ পাকিস্তানে আমরা ভয়াবহ বন্যা দেখেছি। একই সঙ্গে আবার ইন্টার-গভার্নমেন্টাল প্যানেল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) তাদের ৬ষ্ঠ প্রতিবেদনে দেখিয়েছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এই শতাব্দীর শেষে ১.৫ এ বৃদ্ধি আটকে দেওয়ার যে পরিকল্পনা বিশ্বসম্প্রদায় গ্রহণ করেছে জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে, সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ মোটেও কমছে না, বরং বাড়ছে। ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বারবার ফেরত আসছে। আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য বাড়তি সাহায্য ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আসলে যে ক্ষতি হয়ে যাবে, যেমন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয় এক-তৃতীয়াংশ ভূখন্ড সমুদ্রের নিচে চলে যাবে, যদি আমরা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আটকে দিতে না পারি। এক-তৃতীয়াংশ ভূখন্ড পানির নিচে চলে গেলে কত টাকা দিলে আপনার ক্ষতিপূরণকে যথার্থ মনে হবে সে প্রশ্নটা রয়েই যায়! তো সেটা একটা লম্বা সময়ের ব্যাপার, আপাত যে দুর্যোগের মুখে আমরা পড়ছি সেগুলো মোকাবিলার সামর্থ্যও তো আমাদের নেই। ফলে এই কপে উন্নয়নশীল এবং ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাতে অর্থ সহায়তা পায় সেজন্য ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ একটা তহবিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। এটা ৩০ বছর আগে একবার আলোচিত হয়েছিল, তারপর কপ ২৫, কপ ২৬ এ-ও আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু উন্নত বিশে^র বিরোধিতার মুখে কখনো এটা কর্মসূচিতে ঠাঁই পায়নি। এবার অনুষ্ঠানসূচিতে এটার জায়গা পাওয়াটা একটা প্রাথমিক বিজয়।
এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা যখন শুরু হয়, তখন উন্নত বিশ্ব একটা দৃঢ় অবস্থানে যায় তারা কোনোভাবেই এই তহবিল গঠনের ঘোষণা আনতে দেবে না। আর উন্নয়নশীল এবং ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলো ছিল জি ৭৭ এবং চায়না এই মোর্চার অধীনে। তারা অবস্থান নেয় যে, অবশ্যই এই সম্মেলনে এটার ঘোষণা দিতে হবে। এটাতে টাকা কেমন করে আসবে, কে দেবে, টাকা কী নীতিতে বিতরণ হবে, ব্যবস্থাপনা কাঠামো কী হবে সেটা তারা পরে ঠিক করবে। ফলে এটা নিয়ে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। উন্নত বিশ্ব একটা কৌশল নিয়েছিল নিঃসরণ কমানোর এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি আটকে রাখার বিষয়ে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল বিশ^ বলছে, এসবের সঙ্গে এবার তহবিলেরও ঘোষণা দিতে হবে। এই সম্মেলন ১৮ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উভয় পক্ষের সমঝোতায় পৌঁছাতে বাড়তি দুদিন সময় লেগেছে। আশার কথা হচ্ছে, উন্নত বিশ্ব যে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলের বিরোধিতা করেছিল, তারা সেটা মেনে নিয়েছে। মনে রাখতে হবে, তহবিলটা কিন্তু এখনো শূন্য কলস, এখানে এখনো কোনো টাকা আসেনি। তবে আপনার যা প্রত্যাশা, নিঃসরণ কমানোর দিকে, প্রশমনের দিকে, খাপ খাইয়ে নেওয়ার দিকে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দিকে সে প্রত্যাশাগুলো যত দ্রুততার সঙ্গে, যত আন্তরিকতার সঙ্গে হওয়ার দরকার; তা ততটা দ্রুত, ততটা আন্তরিকতার সঙ্গে এবারও হয়নি।
দেশ রূপান্তর : অতীতে এসব সম্মেলন থেকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের যেসব প্রতিশ্রুতি এসেছে, বাংলাদেশ তার কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান : জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক যে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুতি এসেছে তাতে বাংলাদেশের বাস্তবায়নের খুব একটা বিষয় নেই। বাংলাদেশের বিষয় হচ্ছে, ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে, সেটা বাংলাদেশ করেছে। কতটুকু করেছে বা আমরা কতটা খুশি, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মতামত সেখানে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে; সেগুলো ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু এই প্ল্যান বাংলাদেশ করেছে, মুজিব প্রসপারিটি প্ল্যানেও এটার কথা বলা হয়েছে, ডেলটা প্ল্যানেও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। আবার এই মুহূর্তে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে তহবিলগুলো আছে সেগুলো বাংলাদেশ যে খুব একটা আনতে পেরেছে বা পাচ্ছে, তা নয়। এগুলোর একটা কারিগরি দক্ষতাও লাগে, সেটাতে বাংলাদেশের যথেষ্ট পরিমাণ ঘাটতি রয়েছে। ওই তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণ টাকাও আসছে না। আরেকটি বিষয়, যেটাকে আমরা প্রশমন বলি, যেই গ্যাসগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, ওই গ্যাসগুলোর নিঃসরণ কমিয়ে আনা। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বলছে যেভাবে সবকিছু চলছে, সেভাবে চললে সে ৫ শতাংশ কমাবে এবং তাকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে সে চেষ্টা করবে দেশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ১৫ ভাগ কমিয়ে আনতে।
দেশ রূপান্তর : মহামারী, যুদ্ধ এবং সম্প্রতি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে এবারের জলবায়ু সম্মেলন থেকে নতুন কী সমস্যা আলোচনায় এলো আর তার সমাধানে কি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো? ‘প্যারিস চুক্তিকে’ অনেকেই ব্যর্থ বলছেন, সে প্রেক্ষিতে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান : উন্নত বিশ্ব এবার বলেছিল কার্বন নিঃসরণের মাত্রা যদি আমরা ১.৫ এ রাখতে চাই, এক্ষেত্রে অন্য যারা মেজর ইমিটরস যেমন ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা এদেরও কমিট করতে হবে যে, তারা কীভাবে কার্বন কমাবে। অন্যদিকে আবার কিছু কিছু শব্দ তারা আইনি দলিলে ঢুকিয়ে দেয়। যেমন আনঅ্যাবেইটেড মানে হচ্ছে যেসব ফসিল ফুয়েল প্রকল্প সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করছে সেগুলোকে ফেইজ ডাউন করতে হবে। আসলে একধরনের ব্রেইন ওয়াশিং করা হয়... এসব শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে। কিন্তু ফসিল ফুয়েলকে কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা কমানোর যে প্রতিশ্রুতি, তার বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এখানে কোম্পানিগুলোর স্বার্থ আছে। উন্নয়নশীল বলেন আর উন্নত বিশ্ব বলেন সব জায়গাতে আবার কোম্পানিগুলো রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আগামী বছর তো সম্মেলনটাই হবে দোহাতে। অর্থাৎ একটা বড় তেল রপ্তানিকারক দেশে সেটা নিয়ে অলরেডি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্যারিস চুক্তি খুব একটা কার্যকর হয়নি, তবে এখনো ব্যর্থ বলার সময় আসেনি। কারণ হচ্ছে, সমষ্টিগতভাবে উন্নত বিশ্ব হয়তো প্রশমনের দিকে যেভাবে যাওয়ার কথা সেভাবে যাচ্ছে না, কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ বা সেসব দেশের কিছু কিছু প্রদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা প্যারিস চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা বলছে। কিন্তু যেভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ বিষয়ে কাজ করার কথা, সেভাবে এখনো কাজ হচ্ছে না। তবে একটা কথা আমাদের মানতে হবে ১৯৩টি দেশ যখন একসঙ্গে দরকষাকষি করে, সেখানে কিছুটা বিলম্ব হবে। মুশকিল হচ্ছে প্যারিস চুক্তিতেও এমন কিছু কথা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর নীতি থেকে হুট করে সরে আসার পথকেও সুগম রাখেনি। তবে আইপিসিসির ৬ষ্ঠ রিপোর্টের ভিত্তিতে বিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়ে, মানবাধিকারের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রগুলো যদি এখনো কপ ২৭-এর যে সিদ্ধান্ত ‘২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমিয়ে ২০১৯-এর মাত্রায় আনতে হবে’, সেই লক্ষ্যমাত্রা ধরে এগোলেও; আমরা পৃথিবীকে বাঁচাতে, অনেক দেশকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে, আগামীর জন্য পৃথিবীটাকে মোটামুটি বাসযোগ্য রেখে যেতে সক্ষম হব।
দেশ রূপান্তর : আমাদের মতো দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়গুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চাইতে অনেক গুরুত্ব পায়। সরকারগুলোর অবস্থান পরিবেশ ও উন্নয়নকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, এক্ষেত্রে করণীয় কী?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান : এটা একটা আশ্চর্য বৈপরীত্য। আমরা বিদেশে গিয়ে বলি তোমরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাও আর নিজের দেশে, মানে বাংলাদেশে যেখানে ১২ মাস সূর্য থাকে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের দিকে মনোনিবেশ করছি না। আমাদের জ্বালানি খাতকে আমরা আমদানিনির্ভর করে ফেলছি। আমার ইচ্ছে করেই পরিবেশকে ও উন্নয়নকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফেলছি। এ দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ভাবটা এমন উন্নয়ন করতে গেলে পরিবেশের ধ্বংস অপরিহার্য, কিন্তু এটা মোটেও সঠিক নয়। উন্নত বিশ্ব যখন উন্নয়ন করেছে, তখন তাদের কাছে বিকল্প ছিল না। তাদের কয়লা পোড়াতে হতো, তারা সৌরবিদ্যুতের কথা জানত না। কয়লা বিদ্যুতের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব তখন জানত না। কিন্তু আমরা জেনে এবং বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন সেই আত্মহত্যার পথকেই বেছে নিচ্ছি! এখানে আসলে কিছু গোষ্ঠীর, কিছু মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। দেখুন, আপনি যখন ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন, তখন মশাকে সঙ্গে নিয়ে মিটিং করেন না। কিন্তু উন্নত বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তনের মিটিংয়ে যায়, তখন তারা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায় এমন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যায়। একটা হিসাবে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবারও গত বছরের চেয়ে ২৫ ভাগ বেশি প্রতিনিধি নিয়ে গিয়েছিল; যারা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত। কাজেই উন্নয়নের জন্য যে আমরা পরিবেশ ধ্বংস করছি, তা নয়। উন্নয়নটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক, গোষ্ঠীকেন্দ্রিক।
দেশ রূপান্তর : পরিবেশ আইন, নদী সুরক্ষা, বন সুরক্ষা আইন থাকার পরও বন, নদী, গাছ, পাহাড় সব উজাড় হচ্ছে। একদিকে আইন অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি। সমস্যা কোথায়?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান : এর জন্য অনেকেই জনসংখ্যাকে দায়ী করে, কিন্তু এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আসলে পাহাড় কাটে না, বন উজাড়, নদী দখল করে না এটা করে মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী। ওই প্রভাবশালীদের স্বার্থকে বাইরে রেখে পরিবেশ সংরক্ষণে কোনো সরকারই মনোনিবেশ করতে পারেনি। আমাদের দেশের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো কিন্তু বেশ জলবায়ুবান্ধব। তারপরও আপনারা দেখবেন জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিকে সর্বোচ্চ স্থানে, যদিও আমাদের দেশে জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে আইন আছে। এবার কিন্তু কপ ২৭-এ জলাশয় ভরাটের বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়া মানলে উন্নয়নকে আপনি টেকসই করতে পারবেন; আপনি সেটা মানবেন না। আবার না মেনে ত্বড়িৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে যাবেন এবং জনমতকে একেবারে অগ্রাহ্য করবেন, তারপর বলবেন পরিবেশ ও উন্নয়ন হচ্ছে সাংঘর্ষিক এটা কোনো গ্রহণযোগ্য অবস্থান হতে পারে না। এটা আসলে একটা অর্থনৈতিক কৌশল; যার বেশিরভাগ দেশ যেগুলোতে দুর্নীতি বেশি বিস্তৃত থাকে, সেসব দেশেই এমন হয়ে থাকে। আমাদের নদীগুলো দেখলে মনে হবে সেগুলো হলো বর্জ্যরে ভাগাড়। এমনভাবে উন্নয়নের দাপাদাপি করা হয়, যেন ট্যানারির কারণে ধলেশ্বরীকে বিসর্জন দেওয়াই যায়! কিন্তু আপনি ১০০টি ট্যানারি সৃষ্টি করতে পারবেন, একটা ধলেশ্বরী সৃষ্টি করতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে সরকার কী করে এগুলো স্যাক্রিফাইস করে, কোন আইন, কোন সংবিধানের আলোকে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। মুশকিল হচ্ছে, যারা এসব ধ্বংস করে তারা রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের খুব কাছাকাছি থাকে। এই অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব আছে রাজনীতির ওপর। রাজনীতিকে আমরা সেই দুর্বৃত্তায়ন থেকে রক্ষা করতে পারিনি। পাশাপাশি জবাবদিহি না-থাকা, গণতন্ত্র না-থাকা, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা না-থাকাকেই আমি সবকিছু ধ্বংসের জন্য দায়ী করছি।
