তপন বাগচীর কবিতা

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ১২:২১ এএম

আগুনে পোড়ে না সব

আগুনে পোড়ে না সব, কিছু কিছু থেকে যায় অদাহ্য অধরা

আগুন তো সর্বগ্রাসী এই সাধুবাক্য  নাকি  সর্বজনে জানে

নদী কেড়ে নেয় সব ভিটেমাটি, আগুন তো মাটিটুকু রাখে।

আর কোনো সত্য নেই? নেই কোনো আবিষ্কৃত নতুন বিজ্ঞানে?

আগুনে হৃদয় পোড়ে, ধোঁয়া তার থেকে যায় অদৃশ্য অজানা

নিদাঘ আগুনে পুড়ে খাঁটি হয় বস্তুসত্য সোনার গহনা

আগুনের কী যে গুণ! জীবনকে বাঁচায় সে, অমান্য এ কথা

আগুনেই শুরু হয় পোড়া এই জীবনের নবস্বপ্ন বোনা।

 

আগুন পোড়ায় সব, ছাই দেখে চিনে নিতে পারি তার নাম

আগুনে পোড়ে না তবু মনের দীনতা আর নষ্ট মনস্কাম।

 

আগুন আমার ভাই

প্রশিক্ষিত গাড়ি থেকে দমকল তুমুল ছিটাচ্ছে ঠা-া পানি

আগুনের লকলকে জিহ্বা তবু ক্রুদ্ধ ফণা তোলে বারবার

উড়াল সেতুতে পাশে আতঙ্কিত কতিপয় বিশ্বাসী যুবক

ধ্বনি তুলে মুঠো ভরে বালু ছোড়ে মুক্ত আগুনের দিকে আর...

 

ভাবে, এতে নিভে যাবে আগুনের উৎসবের সুপ্ত কেরামতি,

ভাবে, কিছু পুড়বে না, বেঁচে যাবে কাপড়ের স্তূপ; কালো ধোঁয়া

থেমে যাবে সহসাই, স্বস্তি পায় হননের ক্রীড়া ভেবে ভেবে

হেলিকপ্টারের ছুড়ে মারা পানি দেখি আকাশেই যায় খোয়া।

 

সহজে কি পোড়ে বলো, হৃদয়ের সুগভীর মত্ত আকুলতা

অথচ আগুনে পোড়ে শাড়ি-গেঞ্জি-প্যান্ট-লুঙ্গি-কামিজ-পাঞ্জাবি

দূষিত বাতাস কিছু পুড়ে যায়, মুছে যায় স্তব্ধতার সীমা

তবু বেঁচে থাকে স্বপ্ন, বেড়ে ওঠে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর দাবি।

 

আগুন আমার ভাই, ফুঁ দিলেও নিভবে না প্রজ্জ্বলন্ত শিখা

কেবল সে ছাই চেনে, থেকে যায় মানুষের দম্ভ-অহমিকা।

 

আগুনের লেলিহান শিখা

আগুনের লেলিহান শিখা বুঝে নিতে পারি, কতটা দহন

কতটুকু দাহ্যবস্তু পেলে কত ঊর্ধ্বগামী হতে পারে ধোঁয়া

এসব দেখে দেখে গ্রামের কিশোর আমি শহরে এসেছি

বুঝি না নতুন ভাও, আগুনের শিখা দেখি, যায় না যে ছোঁয়া।

 

আগুন এলেই ছোটে দমকল, জলবাহী শশব্যস্ত গাড়ি

আগুন কি নিজে লাগে? কারা তাতে সুকৌশলে জোগায় ইন্ধন

কার কোপে পুড়ে যায় শখের বেসাত আর স্বপ্ন আগামীর

কেবল সম্পদ নয়, সঙ্গে পুড়ে ছাই হয় সকলের মন।

 

আগুন লাগার পিছে গল্প থাকে, নিবিড় রহস্য থাকে শুনি

তবুও আগুন লাগে খুব ভোরে, নেভাতে পারে না সুরধুনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত