'পঁচাত্তরের পর বাঙালির ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়'

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ০৩:১১ পিএম

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেছেন, পঁচাত্তরের পর ছিয়ানব্বই পর্যন্ত যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন তারা বাঙালির ইতিহাসকে উল্টে দিতে চেয়েছিলেন।

শুক্রবার (১৯ মে) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে 'ফিরে দেখা ১৯৭১ এর চিঠি ও কথা' শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বইটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন ড. এ কে এম এ কাদের, অ্যাডভোকেট মো. সুলতান মাহমুদ এবং ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ।

বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, এমন একটি আলোচনায় আজ আমরা মিলিত হয়েছি যে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আজকের মোড়ক উন্মোচিত হওয়া বইটি শুধু বই নয়, এটি একটি সংগ্রহ। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন ক্যাম্পে থেকে যে চিঠি লিখেছেন এই বইটিতে সেসব তুলে ধরা হয়েছে। এই বই ইতিহাসের কথা বলে, একাত্তরে আমাদের ইচ্ছা, কষ্ট, দাবি আদায় ও অবস্থানের কথা বলে।

তিনি বলেন, বইটি যখন পড়ছিলাম তখন আমি ফিরে গিয়েছিলাম একাত্তর সালে। সে সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সের ছাত্র ছিলাম। সেখান থেকে ৮ মার্চ গ্রামে চলে যাই। এরপর থেকে আমাদের ইতিহাস এলো, স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়লাভ করে ডিসেম্বরে আবার ঢাকায় ফিরলাম। ১০ জানুয়ারি আবার বঙ্গবন্ধু ফিরলেন এবং বাংলাদেশ তার পূর্ণ স্বাধীনতায় ফিরল। তারপর থেকে যার যার কাজ আমরা শেষ করে বিভিন্ন পেশায় চলে গেলাম।

তিনি আরও বলেন, আমরা কী সেই সময় ভেবেছিলাম মানুষের মুক্তির কথা, তাদের বেঁচে থাকার কথা– কিন্তু তার কতটুকু আমরা করতে পেরেছি? সেই কথাই যদি জিজ্ঞাস করি তার কোনো ভালো উত্তর আমরা পাব না। পঁচাত্তরের পর ছিয়ানব্বই পর্যন্ত যারা ছিলেন তারা বাঙালির ইতিহাসকে উল্টে দিতে চেয়েছিলেন, চেষ্টা করেছিলেন। তারপর আবার সময় এসেছে, তারপর অসময়, তারপর আবার সময়। এর ভেতরেই আমরা এগিয়ে চলেছি। কিন্তু সেই যে স্বাধীনতার কথা, যেই কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আমরা যারা অংশগ্রহণ করেছিলাম, আমরা যদি আজ প্রশ্ন করি– আমরা কি সব পেয়েছি? দুঃখের সঙ্গে বলছি, কিছু পেয়েছি সব পাইনি।

মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, যেটুকু পেয়েছি তা গ্রহণ করে তার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আগামীতে সব অর্জন করতে হবে আমাদের। আজকের উন্মোচিত বইটি পড়লে অনেক ইতিহাসের কথা জানা যাবে। অনেক কিছুই আমরা জানতে ও বুঝতে পারব, সর্বোপরি মানুষের কথা, আমাদের দেশের কথা ও দেশকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো সে সম্পর্কে ভাবা যাবে।

উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই দেশটির সেবা করে দেশটির উন্নয়ন করতে পারে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেটিই হবে আমাদের চেষ্টা ও উদ্দেশ্য।

মোড়ক উন্মোচনের সময় ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা জোগমায়া মালো এবং যুদ্ধশিশু সামসুন নাহার।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ড. এ কে এম এ কাদের অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সুলতান মাহমুদ, ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত