হাটভর্তি পশু দাম চড়া

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ০৭:৫৮ এএম

ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলো গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়া ও দুম্বায় ভরে উঠেছে। হাটে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে। স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ বিক্রি জমে ওঠার আশা করছেন ব্যবসায়ী ও হাটের ইজারাদাররা। ক্রেতারা অবশ্য বলছেন, পশুর দাম বেশি। আর বিক্রেতাদের বক্তব্য, পশু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দাম চড়া।

ঢাকার স্থায়ী, অস্থায়ী ও অবৈধ পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পশু রয়েছে হাটগুলোতে। বেশিরভাগ পশুই দেশি প্রজাতির এবং দেশেই লালন করা। বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এ কারণে মাঝারি ও বড় গরুর পরিবর্তে অধিকাংশ মানুষ ছোট গরু কেনার চেষ্টা করছে।

পশু হাটের ক্রেতারা জানান, নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় রুটিন আয়ে চলতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পশু পালনে খরচ বাড়ায় কোরবানির পশুর দামও বেড়েছে। ফলে বাজেট কাটছাঁট করে পশু হাটে এসেছেন তারা। যারা গত বছর একাই পশু কোরবানি দিয়েছেন, এবার তারা কয়েকজন মিলে কোরবানি দিতে যাচ্ছেন। আর গতবার যারা বড় পশু কোরবানি দিয়েছিলেন, এবার তারা ছোট পশু কোরবানি দেবেন বলে মনস্থ করেছেন।

সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার কমলাপুর হাটটি আশপাশের অলিগলি, সড়ক ও ফুটপাতে বিস্তৃত হয়েছে। গতকাল ওই হাটে অল্পসংখ্যক পশু বিক্রি হচ্ছিল। ফিরতি পথে ক্রেতাদের মুখে হাসি ছিল না। তারা জানান, গতবারের চেয়ে এবার পশুর দাম বেশি। কেউ আশার চেয়ে ছোট গরু কিনে বাসায় ফিরেছেন। তবে হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকায় আজ ও আগামীকাল বিক্রি বাড়ার সঙ্গে পশুর দাম কিছুটা পড়বে বলে মনে করছেন হাটসংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, খামারি ও পশু-ব্যবসায়ীদের অভিমত, হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। বিক্রেতারা হাটে পশু বিক্রি করেই ঘরে ফিরতে চাইবে। এজন্য হাট জমার সঙ্গে সঙ্গে দামও কিছুটা কমবে বলে তাদের অভিমত।

মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন বনশ্রী এইচ ব্লক, জে ব্লক, কে ব্লকের সব সড়কে গরু বেঁধে রাখতে দেখা গেছে। বনশ্রী থেকে মাদারটেক অ্যাভিনিউ রোড, মেরাদিয়া থেকে কাজীবাড়ি অ্যাভিনিউ রোডের দুই পাশে গরু ও ছাগল বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। হাটটি নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়েও আশপাশের এলাকাতেও বিস্তৃত। সকাল থেকেই ওই হাটে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে।

পাবনার বেড়ার হাতিগাড়া থেকে মেরাদিয়া হাটের কাজীবাড়ি অ্যাভিনিউ সড়কে পশু উঠিয়েছেন মো. সিরাজুল ইসলাম ও লালচান মিয়া। তারা বলেন, গত শুক্রবার ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন। প্রথম দুদিন বিক্রি না হলেও রবি ও সোমবার ছয়টি গরু বিক্রি করেছেন তারা, গরুগুলোর দাম দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে।

আফতাবনগর পশুর হাটে তিলধারণের ঠাঁই নেই। হাটটিতেও চলছে বেচাকেনা। এ হাটে কুষ্টিয়া থেকে ৬০টি গরু নিয়ে এসেছেন নজরুল ইসলাম ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘মাঝারি ও বড় আকারের গরু এনেছি। ইতিমধ্যে ১৫টি বিক্রি হয়েছে। সবই বড় সাইজের। অবশ্য বেশিরভাগ ক্রেতাই দেখে চলে যাচ্ছেন। দাম বেশি হওয়ায় আমার গরুর দামাদামি করছেন না তারা।’

ভাটারার সাঈদনগর পশুর হাটেও কেনাবেচা মোটামুটি জমে উঠেছে। এ হাট থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন ভাটারার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পরে দাম বাড়বে না কমবে জানি না। গরু পছন্দ হয়েছে, তাই কিনে ফেললাম। তবে গরুর দাম গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি।’

তেজগাঁও পলিটেকনিক কলেজ মাঠও গরু-ছাগলে পূর্ণ। তবে এ হাটে বিক্রি জমেনি। এজন্য বিক্রেতাদের মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখা গেছে। হাটে গরু দরদাম করছিলেন নাখালপাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল মামুন। তিনি বলেন, ‘কোনো গরুর দামই লাখের নিচে বলছে না। যেটাই জিজ্ঞেস করি, দাম লাখের ওপর। তাদেরই দোষ দিই কীভাবে। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। একটা বাছুরও ৫০ হাজারের কমে পাওয়া যায় না।’

ঢাকা পলিটেকনিক কলেজ মাঠের হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ হোসেন খান বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে রবিবার থেকে আজ (সোমবার) কিছুটা বেড়েছে। কাল (আজ) থেকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

গাবতলী হাটে বিক্রি শুরু হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষ-ভেড়া-দুম্বাও মিলছে ওই হাটে। উট ওই হাটের বিশেষ আকর্ষণ হলেও ভারত থেকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় গতবার এবং এবার এ হাটে উট আসেনি। স্থায়ী হাট হওয়ায় এ হাটের ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো। চেনাজানা মানুষেরা তাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে গাবতলী হাটে পশু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

আদাবরের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির গাবতলী হাট থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেছেন। মিনি ট্রাকে ওঠানোর সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত বছর এ আকৃতির গরু কিনেছিলাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার কিনতে হলো ১৫ হাজার টাকা বেশিতে।’

অবৈধ হাট: সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গার বাইরেও ঢাকায় হাট বসিয়েছে অসাধু চক্র। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ডিএসসিসির নবনির্মিত ভবনের পাশে একজন আড়তদার শতাধিক গরুর অবৈধ হাট বসিয়েছেন। পাশে মুরগিপট্টি, কুমড়াপট্টি, বড়বাজারে আরও তিন-চারটি অবৈধ হাটে দুই শতাধিক গরু ওঠানো হয়েছে। মেরাজনগর বালুমহালে দুটি নবনির্মিত অ্যাপার্টমেন্টের নিচে দেড় শতাধিক গরু বিক্রির আয়োজন করা হয়েছে। রইসনগরের মায়ের আঁচল অ্যাপার্টমেন্টের নিচে অর্ধশত গরু বিক্রির আয়োজন হয়েছে। বাংলা মোটর ও হাতিরঝিলসংলগ্ন এলাকায় চার-পাঁচটি অবৈধ পশুর হাট বসেছে।

ঢাকার দুই সিটিতে এবার ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। অস্থায়ী হাট ১৮টি এবং স্থায়ী হাট ২টি। অস্থায়ী হাটগুলোতে রবিবার আনুষ্ঠানিক বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদের দিন পর্যন্ত থাকবে এসব হাট। স্থায়ী হাটগুলো কোরবানি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে। সব হাটেই পশু ক্রয়ে ক্রেতাকে শতকরা ৫ টাকা হাসিল দিতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত