সরকারি কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাচ্ছেন। ওই সময়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে এ প্রণোদনা যোগ হচ্ছে। অর্থাৎ তারা জুলাই মাসের বেতনের সঙ্গে মোট ১০ শতাংশ বাড়তি অর্থ পাবেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে শতভাগ মূল বেতন পেলেও আপাতত তারা ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাচ্ছেন না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সোনামনি চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়তি ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে এখনো আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। ফলে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের প্রণোদনা দিচ্ছি না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তারা এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এখন একটি সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হবে অর্থমন্ত্রীর কাছে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য যাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে। বাড়তি ৫ শতাংশের জন্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। তাদের বেতন-ভাতার পেছনে বছরে সরকারের ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। যদিও এ টাকায় সরকার শতভাগ মূল বেতন দেয়। আর প্রত্যেক শিক্ষককে বাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে ১০০০ ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ মাসে ৫০০ টাকা দেয়। শিক্ষকরা উৎসব-ভাতা পান মূল বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা উৎসব-ভাতা পান মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া তারা সরকারি কর্মচারীদের মতো বৈশাখি-ভাতা পান। তবে যদি সরকারি কর্মচারীদের মতো ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে হয় তাহলে সরকারকে বছরে আরও ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এ বিশেষ আর্থিক প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে একরকম বিপর্যস্ত। সরকার ঘোষিত সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ শতাংশ বিশেষ আর্থিক প্রণোদনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। এতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি স্পষ্ট করা হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি উহ্য রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
