প্রেম নিয়ে কলেজ ছাত্রকে হত্যা, ১৭ দিন পর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ০৫:১৭ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে নিখোঁজের ১৭ দিন পর কলেজ ছাত্র হৃদয় কবিরাজের (২২) লাশ ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বাউফল-দাসপাড়া খালের খেজুরবাড়ীয়া এলাকা থেকে মোটরসাইকেল এবং শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাশাপাশি স্থান থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে বাউফল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ঘাতক জাফর খাঁনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাফর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়ীয়া এলাকার (৩ নং ওয়ার্ড) মো. হাসেম খানের ছেলে।

আসামি জাফরের দেয়া তথ্যমতে, প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাফর ও হৃদয় কবিরাজের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গত ১১ জুলাই রাতে বন্ধুরূপী জাফর খাঁন হৃদয় কবিরাজকে খেজুরবাড়িয়া একটি নির্জন এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে নেশাদ্রব্য পান করিয়ে তার পেটের নিচের অংশে ও লজ্জাস্থানে আঘাত করে হত্যা করেন জাফর। এরপর পাশের খালে ফেলে টেনে জনমানবহীন একটি স্থানে কচুরিপানার নিচে ঢেকে রাখে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি একটু দূরে একই খালে ফেলে দেয়।

এর আগে গত ১১ জুলাই হৃদয় তার নিজ বাড়ি থেকে বের হন। টানা দুই দিন সন্তানের খোঁজ না পেয়ে ১৩ই জুলাই তার পরিবার বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের শুরুতে ১৪ তারিখ পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন হত্যাকারী জাফর। তবে জাফর খুব সুন্দর ভাবে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণিত করে ছাড়া পেয়ে যান।

দীর্ঘ ১৭দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার জাফরকে তার নিজ এলাকা থেকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাফর হত্যার দায় স্বীকার করেন। রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে উদ্ধার অভিযান। জাফরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে মোটরসাইকেলের অদূরে একটি নির্জন জায়গা থেকে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় হৃদয়ের লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু লাশের অবস্থা বিভীষিকাময় ও গলিত হওয়ায় রাতে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মইনুল ইসলাম বলেন, ‘১৭ দিনের তদন্ত শেষে আমরা আসামি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। লাশ উদ্ধার ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পেরেছি। আমরা খতিয়ে দেখছি এর সাথে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত