সেলিমা রহমান

নির্বাচন নির্বাচন নাটক রুখে দিতে হবে

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৩৪ পিএম

সরকার পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে অভিযোগ তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, আজকে সারা দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। জনগণ তাদের হ্যাডম দিয়ে আপনাদেরকে রুখে দেবেন। একজনের (শাহাজাহান ওমর) ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবে এবং সরকারের নির্বাচন নির্বাচন নাটক রুখে দিতে হবে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসকদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ, বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চিকিৎসকদের এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জিয়া পরিষদের ডা. আবদুল কুদ্দুস, ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এমএ সেলিম, উপদেষ্টা ডা. রফিকুল কবির লাবু, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক আমীরুল ইসলাম কাগজী, ডা. শহীদুল আলম, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, ডা. মো. শহীদ হাসান, ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. ওবায়দুল কবির খান, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. আদনান হাসান মাসুদ, জাহিদুল করিম কচি, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা সিদ্দিকী, ডিইউজের সাঈদ খান, ডা. এমএ কামাল, প্রকৌশলী মো. হানিফ, ডা. জাহানারা লাইজু, বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। 

সাইফুল হক বলেন, এই সরকার দেশের মানুষের ভাত ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। ২২ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে সারা দেশে গ্রেপ্তার করেছে। সাড়ে ৮ শতাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। এমনকি মৃত ব্যাক্তিকেও সাজা দিয়েছে! কী ভয়ংকর পরিস্থিতি? আজকে একই মামলায় মির্জা ফখরুলসহ অনেকেই কারাগারে, আর একই মামলায় শাহজাহান ওমরের জামিন মিলে! কী প্রহসন! এটা তো প্রমাণিত যে, বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য এসব করা হয়েছে। তবে এবার জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত। 

জোনায়েদ সাকী বলেন, দেশে জুলুম ও জাহেলিয়াতের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আজকে মায়েরা রাজপথে নেমে তাদের সন্তান বা স্বামীকে ফিরে পেতে কান্না করছে। এই মায়েদের কান্নার আওয়াজ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। আজকে এই সরকার যে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে তা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমররে মুক্তি ও নৌকা প্রতীক দিয়ে প্রমাণ করেছে।

ডা. আবদুল কুদ্দুস বলেন, এ দেশের মানুষ পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা প্রহসনের একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে এবং আগামী দিনে তা প্রতিহত করবে। 

ডা. এম এ সেলিম বলেন, আমরা কী আজকে সত্যি স্বাধীনতা অর্জন করেছি? আজকে বিরোধী দলের প্রায় দুই লাখ নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ছেড়ে রাত কাটাচ্ছে। আজকে প্রধানমন্ত্রী মার্চ মাসে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন! কেনো? আপনি পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। 

ডা. রফিকুল কবির লাবু বলে, আওয়ামী ও প্রধানমন্ত্রী কতোটা দেউলিয়া হলে পরে একতরফা নির্বাচন করতে গিয়ে ডামি প্রার্থী দিয়েছেন! এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে? সুতরাং অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন।

প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আজকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে জামিন দিচ্ছে না। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত