লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইটভাটা নির্মাণে সরকারি খাল ভরাট করে ব্যক্তিগত জমি দিয়ে খাল খনন করে পানির গতিপথ পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মের্সাস হাসেম ব্রিকস ইটভাটার মালিক আব্দুল গনির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫শত ফুট খাল ভরাট করে খনন করার অভিযোগ।
উপজেলার চর লরেন্স তুলাতলি এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার মেঘনা এবং ভুলুয়া নদীর সংযোগ স্থলে খালটি খনন করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর খালের গতিপথ ঠিক থাকলেও হঠাৎ ইটভাটা নির্মাণে নিজের সুবিধার্থে সরকারি খালটি ভরাট করে ভাটার মালিক তার-ই নিজস্ব জমি দিয়ে খাল খনন করে পানির গতিপথ পরিবর্তন করে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো খালের প্রবেশ মুখ থেকে প্রায় উত্তরে ৫০ফুট খাল খননের দৃশ্য রয়েছে। এছাড়া খালের উপর ইটভাটার পোড়া মাটি, বালু, কয়লা, ইটের আদলায় ভরপুর। খালটি তার গতিপথ হারাতে বসেছে। ৫০ফুট খালের দৃশ্যপট মাত্র কয়েক ফুটে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫০ফুট দক্ষিণ থেকে সরকারি খালটিকে সরিয়ে ইটের আদলা ও মাটি দিয়ে ভরাট করে উত্তরে ইটভাটার মালিক গনি তার নিজস্ব জায়গায় খালটি খনন করেন। এছাড়াও তিনি তার ইটভাটার ময়লা আর্বজনা ও কয়লায় ফেলে খালের পানি দূষিত করছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আবাসস্থল, বাড়ি-ঘর ও ফসলি ভূমির কোটি টাকা ইটভাটায় নষ্ট হচ্ছে।
মের্সাস হাসেম ব্রিকস্ এর মালিক আব্দুল গনি সরকারি খাল দখল ও ভরাটে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি আরও দাবি করেন খালের ভেতরে তার কিছু জমি রয়েছে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকারি অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো খাল কারো ব্যক্তিস্বার্থে ভরাট অথবা দখল করা যাবে না। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ বে-আইনি। এছাড়াও প্রাকৃতিক কোনো গতিপথ রোধ করা কারো ইখতিয়ারে নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ মো.রেজা দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকারি বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো খাল ব্যক্তি মালিকরা দখল অথবা ভরাট করতে পারবে না। তিনি সরকারি খাল ভরাট করে নিজের জায়গায় খনন করে দিয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ইটভাটায় খাল দখল এবং খাল সরিয়ে পানির গতিপথ পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
