বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাস, ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকার সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র ততই বাড়ছে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনে নাশকতার ঘটনা। গত মঙ্গলবার আগুন দেওয়া হয় 'মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস' ট্রেনে। তিনটি বগিতে লাগা আগুনে মারা যান মা ও শিশুসহ চার জন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে যে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ঘটনার মতো নাশকতা চলছে,সাধারণ মানুষকে শিকারে পরিণত করা হচ্ছে, জাতিসংঘ বিষয়টি কিভাবে দেখে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে স্টিফেন ডুজারিক বলেন,’ ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের জন্য শোক ও তাদের স্বজনদের আমরা সমবেদনা জানাই। আমি মনে করি, এসব নাশকতা উৎসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনাটা অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।’
২৮ অক্টোবর বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে অগ্নিসংযোগের বিভিন্ন ঘটনায় ৩ শতাধিক যানবাহন ও ১৫টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্রিফিংয়ে বিএনপি সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন সহকারী প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারি বরাবরের মতোই প্রশ্ন করেন জাতিসংঘ বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানাবে কিনা? জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন,’ মুশফিক, আমি আগেও আপনার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আর আপনার প্রশ্নেই আমাদের উত্তর আগেভাগে দেওয়া আছে, সেটি হলো আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানাই। জনগণ যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারে। আর অবশ্যই নির্বাচনের পরেও আমাদের কিছু বলার থাকবে, তবে আপাতত আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’