রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিসিইউ-১- থেকে এর ইনচার্জ (সিনিয়র স্টাফ নার্স) বিলকিস বেগমের নেতৃত্বে ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কমিটিকে আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হয়।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ডিসেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় 'হৃদরোগে ওষুধ চুরির রমরমা' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
কমিটির সভাপতি করা হয়, কার্ডিওলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মহসীন হুসেন, সদস্য সচিব করা হয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেহানা পারভীনকে। কমিটির অপর সদস্য হলেন, উপ পরিচালক ডা. সাঈদ আল মামুন। এছাড়া কমিটিকে সহযোগিতা করার জন্য উচ্চমান সহকারী মো. আলমগীর হুসেনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ হাসপাতালের সিসিইউ-১-এর ইনচার্জ (সিনিয়র স্টাফ নার্স) বিলকিস বেগমের নেতৃত্বে চলছে ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির রমরমা কারবার। বিলকিসের প্রধান দুই সহযোগী হিসেবে রয়েছেন দুই ওয়ার্ড বয় লাভলু ও মাহফুজ। তাদের আরেক সহযোগী বহিরাগত রুবেল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কিংবা নিয়মিত কর্মচারী না হয়েও সিসিইউতে বিলকিসের ক্ষমতার দাপটে দায়িত্ব পালন করেন। রুবেল টাকার বিনিময়ে সিসিইউতে সিটের ব্যবস্থা করে দেন। যেসব রোগীর লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হয় তাদের স্বজনদের সঙ্গে চুক্তি করে টাকার বিনিময়ে তার ব্যবস্থা করে দেয় রুবেল।
এ চক্রটি রোগীদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে যে ওষুধ দেওয়ার কথা তা না দিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনিয়ে নিয়ে এসে তা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এমনকি এ চক্রটির সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মারা যাওয়া রোগীর অব্যবহৃত ওষুধও গায়েব করে দেয়।
