সাধারণত আমরা খাবারের পর ওষুধ খেয়ে থাকি। কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো খাবারের আগেও খাওয়া হয়, তবে খাবারের পরই বেশি ওষুধ খাওয়া হয়।
কিন্তু কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো খাবারের সাথে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে এবং তাদের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে বা শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
১. আঙ্গুরের সাথে ওষুধ নয়
ওষুধ খাওয়া সময় আঙ্গুর, স্বাদে টক বা বড় কমলা জাতীয় ফল খাওয়া উচিত নয়। এসব ফলে থাকা ভেষজ উপাদান ওষুধকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যবহৃত অন্ত্র বা পেটের এনজাইমকে দমন করে বা বাধা দেয়। আর তাই ওষুধ চলাকালীন সময়ে গ্রেপফ্রুট জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন।
২. কফি বা চায়ের সাথে আয়রন ট্যাবলেট নয়
আয়রন ট্যাবলেটের কাজ হচ্ছে অন্ত্রের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করা। কিন্তু এই ট্যাবলেটের সাথে যদি চা বা কফি পান করা হয় তাহলে তাহলে আয়রন দ্রুত মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায় এবং আয়রন ট্যাবলেটের উপকারিতা কমে যায়। তাই রক স্বল্পতার কারণে যারা আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই আয়রন ট্যাবলেট সেবনের দুই ঘণ্টা আগে বা পরে চা বা কফি পান করবেন।
৩. রক্তের ঘনত্ব কমানোর ওষুধের সাথে সবুজ সবজি নয়
ব্রকলির মত সবুজ সবজি বা সালাদে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে, যা রক্ত জমাট না বাঁধতে সাহায্য করে। তবে যারা রক্তের ঘনত্ব বিশেষ করে পা ফুলে যাওয়ার জন্য ওষুধ খান তাদের ওষুধের সাথে সবুজ সবজি খেলে ওষুধের উপকারিতা কমে যায়।
৪. অ্যান্টি-বায়োটিকের সাথে দুধ জাতীয় খাবার নয়
অ্যান্টি-বায়োটিকের বিশেষ কিছু উপাদান দুধের ক্যালশিয়ামের সাথে মিশে দানা বা জট আকারের হয়ে যায়। ফলে তা পেটের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করতে পারে না। আর তাই অ্যান্টি-বায়োটিকের সাথে দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার না খাওয়াই শ্রেয়। তবে অ্যান্টি-বায়োটিক খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে বা পরে দুধ খাওয়া যাবে।
৫. প্রক্রিয়াজাত মাংসের সাথে ডিপ্রেসনের ওষুধ নয়
প্রক্রিয়াজাত মাংসের খাবারে প্রচুর পরিমাণে থাকে টিরামিনা। যারা বিষণ্ণতায় ভোগেন তাদের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে এ সব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
