রক্ত সংবহনতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ দুই অংশ হল শিরা এবং ধমনী। ধমনীর মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, আর শিরা দূষিত রক্ত বহন করে নিয়ে যায়।
তবে শিরা, ধমনী কিংবা পেশিতে রক্ত জমাট বাঁধলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। সেই অংশের কোষগুলির মৃত্যু হয় এবং অঙ্গের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি বা আংশিক ভাবে নষ্ট হতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ার নাম থ্রম্বোএম্বলিজম।
বিভিন্ন বয়সে আমাদের দেহের হৃৎপিণ্ডে শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে নানা বিপত্তি তৈরি হতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাক, হার্টে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে কিছু খাবার এই রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
বেদানা
শরীরে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বেদানা। এই ফলে রয়েছে পলিফেনলের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা শিরায় রক্তের সরবরাহ ঠিক রাখে। শুধু শিরা নয়, প্রতি কোষে অক্সিজেনের জোগান পর্যাপ্ত রাখতেও এই ফল অনেক কার্যকরী। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলেও বেদানা ওষুধের মতো কাজ করে।
হলুদ
হলুদ সাধারণত রান্না কাজে বেশি ব্যবহৃত হলেও এই অনেক ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে। হলুদে থাকা কারকিউমিন একটি সক্রিয় উপাদান এবং এতে প্রদাহ-বিরোধী এবং রক্ত-পাতলা বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
আদা
আদা হল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি জাতীয় মশলা যা রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া আদাতে স্যালিসিলেট রয়েছে, এই উপাদান রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই রক্ত জমাট বাধার সমস্যা থাকলে আদা চা হতে পারে উৎকৃষ্ট সমাধান।
বিট
বিটে রয়েছে নাইট্রেটস, যা শরীরে পৌঁছে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। নাইট্রিক অক্সাইড শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক রাখে। পেশিতে রক্তের যোগান পর্যাপ্ত রাখে। তাছাড়া এই উপাদান রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে এতে।
রসুন
রসুনে অ্যান্টিথ্রোম্বোটিক বিশিষ্ট রয়েছে, যার মানে এটিতে থাকা উপাদান দেহে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এটি রক্তচাপ কমাতে ও সাহায্য করে এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে রক্ত জমাট বাধা রোধ করতে হালকা প্রভাব ফেলে।
দুধের সাথে খাওয়া উচিত নয় যেসব খাবার