আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল হার্ট। এই অঙ্গটি দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন ও পুষ্টি সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয়। তার ফলেই কোষগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারে। তাই তো সুস্থ থাকতে হার্টের খেয়াল রাখাটা খুবই জরুরি।
বর্তমান সময়ে অসতর্কতা ও খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম আমাদের অল্প বয়স থেকেই হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়ার কারণে রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে রক্তনালি ব্লক করে এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণ।
হার্ট ব্লক কি
আমাদের শরীরে অসংখ্য রক্তনালি। এদের কাজ হলো প্রতিটি কোষে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া। রক্ত সঞ্চালিত প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হৃৎপিণ্ড। এই অঙ্গটি ক্রমাগত সংকোচনের মাধ্যমে পুরো শরীরে রক্ত প্রবাহ করে।
হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি যদি কোনো কারণে সংকুচিত হয়ে যায় কিংবা রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে যদি রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তবে হার্ট ব্লক হয়েছে বলা হয়। অর্থাৎ রক্তনালিতে ঠিকমতো রক্ত চলাচল করতে না পারার কারণেই হার্ট ব্লক হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে করোনারি আর্টারি ডিজিস নামে বলা হয়।
হার্ট ব্লকের লক্ষণ
হার্টের রক্তনালিতে ব্লক থাকলে অতি অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা যাবে।
হার্ট ব্লক প্রতিরোধে কী খাবেন
কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তনালি ব্লকসহ নানা ধরনের হার্টের অসুখ এড়িয়ে চলা সম্ভব। চলুন জেনে নেই খাবারগুলো কী কী।
সবুজ শাক
সবুজ শাক হার্টের জন্য অনেক উপকারী। এতে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তচাপ কমাতে পারে এবং হৃদরোগ থেকে হার্টকে সুরক্ষিত রাখে। এ ছাড়া সবুজ শাকে মজুত থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে, যা রক্তনালির সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্রকলি
ব্রকলি রয়েছে হার্টের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ৷ এটি ফ্রি র্যাডিক্যাল ড্যামেজ এবং প্রদাহ কমায় । এছাড়াও এতে ফাইবার পাওয়া যায় ৷ যা রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করে ৷ যার কারণে রক্তনালির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও কমে।
টমেটো
টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপেন। এটি কার্ডিওভাসকুলার উপকারিতার সাথে যুক্ত। এটি রক্তচাপ কমাতে এবং হার্ট-সম্পর্কিত অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া টমেটোয় রয়েছে কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ উপাদান, যেটি লো ডেনসিটি লাইকোপ্রোটিন বা খারাপ কোলেস্টেরল- এলডিএল কমিয়ে রক্তনালিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
অ্যাভোকাডো
হার্ট-স্বাস্থ্যকর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ, অ্যাভোকাডো এমন একটি ফল যা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এই ফ্যাট হার্টকে সুস্থ রাখে, ক্যান্সার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া অ্যাভোকাডো দেহকে সোডিয়াম, সুগার ও কোলেস্টেরল মুক্ত রাখে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যাপসিকাম
হার্ট ভালো রাখতে ক্যাপসিকামের জুরি মেলা ভার। ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। এই উপাদানগুলো কার্ডিওভাসকুলার সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিকভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ফ্রিজে রাখলে দ্রুত নষ্ট হয় যে সব খাবার
শীতে শিশুদের ডায়রিয়া হয় কেন?