চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার চন্দ্রনগর সোসাইটিতে জমিজমার বিরোধের জেরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। এই নিয়ে গতকাল সোমবার মারামারিতে জড়ানো এক আইনজীবীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম বাজালিয়া চৌধুরী বাড়ির মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে আইনজীবী মিজানুল হক চৌধুরী(৬৬) এবং ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর হাইদচকিয়া আব্দুল গণি সওদাগর বাড়ির মৃত আহমদ ছফার ছেলে হাবিবুল্লাহ বাহার (৫৪)।
স্থানীয় সূত্রের খবর, চন্দ্রনগর এলাকায় মিজানুল হক চৌধুরী নিজেকে হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দেন। অপরদিকে হাবিবুল্লাহ বাহার পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদের এক কর্মকর্তার ভাই।
আদালতে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেড়মাস ধরে চন্দ্রনগর সোসাইটিতে জমির দখল-বেদখল নিয়ে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘাতে লিপ্ত হয়। দলবল নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ বারবার মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে। এই নিয়ে উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ক্ষান্ত হচ্ছে না কোনো পক্ষ।
গত ১৩ জানুয়ারি দুই পক্ষ সংঘাতে জড়ানোর জেরে গত ১৫ জানুয়ারি বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার গভীর রাতেও সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই পক্ষ। একই দিন বিকেলে ফের মারামারিতে জড়ানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতিতেই অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও হাবিবুল্লাহ বাহার একে অপরকে গালাগাল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে খুনাখুনির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপপরিদর্শক কাজী মোহাম্মদ তানভীরুল আজম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। এদিকে উক্ত জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে করা রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও হাবিবুল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ১০৭/১৫১ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলহাজতে তাদের আটক রাখতে আবেদন করে পুলিশ।
