লোহাগাড়ায় মাটিখেকোরা বেপরোয়া

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫২ এএম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়, টিলার মাটিসহ কৃষিজমির টপসয়েল (মাটির উপরিভাগ) নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটিখেকোরা। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি কাটা। সন্ধ্যা নামলেই এক্সকাভেটর (মাটি খননযন্ত্র) দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে মিনি ট্রাকে করে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সিন্ডিকেট করে চলছে মাটি কাটার ‘মহোৎসব’। উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও তা আমলে নিচ্ছেন না মাটি ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়হাতিয়া ইউনিয়নে মো. রফিক, মেহেদী, মোস্তাক মাঝি, মো. মঞ্জুর, জাহাঙ্গীর, আবদুর রহিম মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুঁটিবিলা ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে জিসান, নাজিম, সাহাবুদ্দিন, মো. সহিদ, মো. পারভেজ মাটির ব্যবসা করছেন। এ ছাড়া চুনতি ও কলাউজানে এরশাদুর রহমান, কামরুল ইসলাম, বেলাল, নুরুল আলম, আবদুর ছবুর, দেলোয়ার, এরশাদ, সেলিম ও এনাম মাটির ব্যবসায়ে জড়িত। পদুয়া ও চরম্বা ইউনিয়নে দেলোয়ার, জাহেদ, রিফাত, বাবু, জয়নাল, আসহাব উদ্দিন, খানে আলম, শওকত হোসেন ও মো. হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা করে আসছেন। এ ছাড়া আধুনগর ইউনিয়নে মো. বেলাল, জমির, মিনহাজ, রাসেল ও শহিদুল ইসলাম মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলায় প্রায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিদিন রাতে মাটিখেকোরা কৃষিজমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী পাহাড়, টিলা কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও লোহাগাড়ার প্রভাবশালী মাটিখেকোরা তা মানছেন না।

এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী লোহাগাড়া সদরের মো. জিসান ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের মোস্তাক মাঝি বলেন, ‘আমরা আগে মাটি ব্যবসা করতাম, এখন করছি না। তবে আমাদের মালিকানাধীন মিনি ট্রাক বা এক্সকাভেটর কেউ যদি ভাড়া নিতে চান, তাহলে তাদের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিই।’

লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, ‘কৃষির উৎপাদন রক্ষায় টপসয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কৃষকদের সচেতন করছি। প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি, যাতে কৃষকরা টপসয়েল বিক্রি না করেন। কিন্তু মাটি বিক্রি চলছেই।’

লোহাগাড়া উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সমন্বয়ক সানজিদা রহমান বলেন, ‘চুনতি অভয়ারণ্যের পাহাড় কেটে প্রতি রাতে মাটি পাচার হচ্ছে ইটভাটায়। এ ছাড়া কৃষিজমির টপসয়েল বিক্রি হচ্ছে দেদার। স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মাটিখেকোরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।’

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাসান বলেন, ‘এসব অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। কিন্তু আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে জনপ্রতিনিধি, বন বিভাগ, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আরও সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে এটি ঠেকানো অসম্ভব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত