বসন্ত ও ভালোবাসার রঙিন দিনে আজ বইমেলাও ছিল মাতোয়ারা। মেলার পরতে পরতে লেগেছিল ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেমেছিল তারুণ্যের ঢল। প্রায় সবাই হলুদ পোশাকে মোহনীয় সাজে এসেছিলেন বইমেলায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল তিনটায় টিএসসি, বাংলা একাডেমি গেট, দোয়েল চত্বরসহ মেলার সব প্রবেশ পথেই ছিল দীর্ঘ লাইন। চারুকলায় বসন্ত শোভাযাত্রা এবং ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই তরুণ তরুণীদের উপস্থিতি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গেট খোলার কিছু সময়ের মধ্যেই গোটা বইমেলা সব শ্রেণির মানুষের পদচারণায় মুখরিত ওঠে। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী লোকজন বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরে মেলায় এসেছেন। এর মধ্যে হলুদ ও বাসন্তি রঙের পোশাকের আধিক্য বেশি। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে অনেকেই হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ঘুরছেন। তরুণীরা খোঁপায় বেঁধেছেন রঙিন ফুল, মাথায় ফুলের বন্ধনী। বসন্ত বরণে যেমন নারীরা তেমনি পুরুষরাও মেলায় আসেন হলুদ-লাল পাঞ্জাবিতে। বেশি নজর কেড়েছেন প্রেমিক যুগল। বসন্ত-ভালোবাসা আর বইবেলা এই তিনে তাদের রসায়ন জমেছে বেশ। শুধু দর্শনার্থীরাই নয়, বাসন্তী সাজে নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছিলেন স্টলগুলোর বিক্রয়কর্মীরাও।
বিকেলে গোটা মেলায় মানুষের ঠাঁই ছিল না। তবে এত মানুষের ভিড়েও বিক্রি ছিল কম। বেশির ভাগ পাঠক বিভিন্ন স্টলে গিয়ে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে দেখছিলেন। ভালোবাসা দিবসের সাজে সেজে বইমেলাতে এসে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তরুণীরা। সেলফি তোলায় মেতেছেন অনেকে। মিরপুর থেকে প্রিয় মানুষকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন কাব্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ। একসঙ্গে এত উৎসব অন্যসময় থাকে না। সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরছি এখন বইমেলায় সময় কাটাচ্ছি। বেশ উপভোগ করছি।
ক্রিয়েটিভ ঢাকা প্রকাশনীর স্টল সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। এই স্টলের সামনে বাসন্তী সাজে ছবি তুলতে দেখা যায় তরুণ তরুণীদের। বিক্রয়কর্মী আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান উপন্যাস, কবিতা, পুষ্টি বিষয়ক বইসমূহ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুম রহমানের বইও পাঠকদের মাঝে সাড়া ফেলছে।
এডুসেন্ট্রিক প্রকাশনায় বাসন্তী সাজে দেখা যায় বিক্রয়কর্মী মাইমুনকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবার আর শনিবার বেশি বিক্রি হয়। আজ বেশিরভাগ মানুষ এসেছেন ঘুরতে। আমাদের এখানে কবিতা প্রবন্ধ এবং গবেষণাধর্মী বইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ নুরুল হুদার আমরা তামাটে জাতি, মিনহাজ উদ্দিন মিরানের প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বুদ্ধিজীবীদের শিক্ষা প্রসঙ্গ, ড. মনিরুজ্জামানের ধনপতি ও খুল্লনা এবং সাদাত উল্লাহ খানের নজরুল ও বঙ্গবন্ধু শতবর্ষের আলোকে এই বইগুলো ভালো সাড়া ফেলছে বলে জানান তিনি।
অন্য প্রকাশের বিক্রয়কর্মী রাব্বি জানান, আমাদের প্যাভিলিয়নে হুমায়ুন আহমেদের বই থাকায় সবসময় ভিড় লেগে থাকে। আজকেও বেশ ভালো তবে যে হারে মানুষের ঢ্ল নেমেছে সে অনুযায়ী প্রত্যাশিত নয়।
বুধবার ছিল অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর ১৪তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ নতুন বই এসেছে ৯১টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাফাত আলম মিশু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুজাতা হক এবং মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক আমৃত্যু তার দুঃসাহসী ও দৃঢ় মানসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশের সংগ্রামী ইতিহাসে তার কর্ম ও আদর্শ চিরঅম্লান হয়ে থাকবে।
