১০ হাজার টাকা খরচ করে অনলাইনে সার্কিট কিনে ডিজিটাল ওজন মেশিন টেম্পারিং করছে অসাধু চক্র। রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করছে পণ্যের ওজন। রাজধানীর কাপ্তানবাজারে মুরগি ব্যবসায়ীদের এই প্রতারণার শিকার খামারীরা। সম্প্রতি এই চক্রের ৪ জনকে আটকের পর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
টেলিভিশন মেকানিক শরীফ, অনলাইনে রিমোট কন্ট্রোলের সার্কিট সংগ্রহ করে। পরে ডিজিটাল স্কেল মেশিনের ডিসপ্লে হ্যাক করে। যার মাধ্যমে রিমোর্ট কন্ট্রোলের সাহায্যে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় ওজনের পরিমাপ।
এভাবে রাজধানীর কাপ্তান বাজারে প্রতারণা করে আসছিলেন কিছু পাইকারি বিক্রেতা। জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ জানায়, অনলাইনে ৩ হাজার টাকার সার্কিট দিয়ে এই মেশিন তৈরির জন্য ১০ হাজার টাকা মজুরি মিলেছে। বছরখানেক ধরে এমন অন্তত ডজন খানেক যন্ত্র বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেছে সে।
অভিযুক্ত শরীফ বলেন, ‘ওই মেশিন দিয়ে মনে করেন যে কাপ্তান বাজারে যে মুরগির আড়ৎ জমে, পাইকারি যে মুরগিগুলো আসে সেখানে ৫০ কেজি ১০০ কেজি করে প্রতি গাড়ি থেকে তারা কমায় রাখে। ওই দুটা পাল্লা কিন্তু এখনও রয়ে গেছে।’
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখেন ওজনের তারতম্য। দেখা যায়, একজন ডিবি সদস্যের ওজন ৮৭ কেজি হলেও রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ডিসপ্লেতে তা কম-বেশি করা সম্ভব।
এসব ডিজিটাল স্কেল মেশিন ব্যবহার করে, কাপ্তান বাজারে অসাধু পাইকাররা মুরগি এবং অন্যান্য মাংস বিক্রিতে প্রতারণা করে আসছেন। ৪ জন আটক হলেও চক্রের অন্যদের খুঁজছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘বাহির থেকে রিপোর্ট দিয়ে যন্ত্রটা কন্ট্রোল করে। ওজন যদি হয় ১০০ কেজি, সেটা ৮০ বা ৭০ কেজিতে নিয়ে আসে। ইচ্ছামত রিমোট দিয়ে তারা এটা নিয়ন্ত্রণ করে। কাপ্তান বাজারে এ ধরনের কমপ্লেইন আমরা আগেও পাচ্ছিলাম। অন্যান্য মার্কেটেও আছে। কোন কোন মার্কেটে কার কাছে বিক্রি করেছে, কারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ক্রাইমগুলো করছে সেগুলোরও আমরা নাম–নম্বর পেয়েছি। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।’ এই অসাধু চত্রের মূল টার্গেট নতুন ও পাইকারি ক্রেতারা, বলছে পুলিশ।