‘এক বাসায় সারামাস কাজ করেছি, আজ বেতন দিয়েছে। যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে তো ঘর চলে না, তাই মেয়েটার জন্য কি কিনবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু আজ যখন স্যার বেতনের সাথে এক হাজার টাকা বখশিশ দিল দেরি না করে এখানে কেনাকাটা করতে চলে এসেছি'
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ফুটপাতের দোকানে দাঁড়িয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জয়মালা বেগম।
তবে কেবল জয়মালা একাই নন, তার মতো নিম্নবিত্তদের ভিড় জমেছে নগরীর আম্বরখানা থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত ফুটপাতের সড়কে। চানরাতে এসব এলাকার ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার।
এসব সড়কে মেয়েদের জামা, থ্রি পিস, জুতা, পায়জামা, মেহেদি, এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, প্যান্ট, শার্ট বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের প্রসাধনী ও ছেলেদের আতর-টুপিও বিক্রি হচ্ছে। এসব ফুটপাতে কেনাকাটা করতে আসাদের বড় অংশ বাসা-বাড়ির গৃহকর্মী, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষ।
বুধবার রাতে সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম বেশি। সাধ্যের মধ্যে পণ্য কিনতে ক্রেতা বিক্রেতাদের দরাদরি ও হাক ডাকে পুরো এলাকাই সরগরম। মধ্যরাত পেরিয়েও চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা।
ফুটপাতে কথা হয় রিকশাচালক রফিকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলের জন্য একটা শার্ট ও মেয়ের জন্য একটা জামা আগেই কিনে রাখছিলাম। আজ রিকশা চালিয়ে বেশি টাকা পেয়েছি তাই স্ত্রীর জন্য একটা থ্রি পিস কিনতে এসেছি। নিজের জন্য কিছু কিনবো কি না ঠিক করি নাই। টাকা থাকলে কিনবো না হয় বাসায় চলে যাব।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে দরদাম করতে দেখা যায়, ফুলেছা বেগমকে। বিক্রেতা একটা থ্রি পিসের দাম ৮৫০ টাকা চাইছিল। ফুলেছা ৩০০ টাকা দিয়ে দর শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ৫২০ টাকা দিয়ে জামাটি কেনে নেন।
