পেটের মেদ সহজে কমতে চায় না। ডায়েট কন্ট্রোল করে, ব্যায়াম করে শরীরের অন্য অংশের অতিরিক্ত মেদ ঝরলেও ভুঁড়ি কমানো খুব মুশকিল।
পেটের মেদ একটি বিব্রতকর বিষয়। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার যে পেটের মেদ বাড়ায় তা নয়, বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারই পেটের মেদ বাড়াতে পারে। একবার পেটে মেদ জমলে সেটা কাটিয়ে ওঠা যাবে না, এ ধারণা ভুল। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্থ হলে সহজে মেদ কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
তবে শুধুমাত্র ডায়েটে পরিবর্তন করলে ওজন কমানো যায় না, এর জন্য আপনাকে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে।
কী খেলে কমবে পেটের মেদ?
১. লেবুর রস মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ওজন কমাতে ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে ওজনের পাশাপাশি পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে।
২. অনেক গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে কফি চর্বি অক্সিডেশনকে উন্নীত করতেও কাজ করে। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে কফিও মেদ কমাতে পারদর্শী।
৩. খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। যেমন—লাল চাল বা লাল আটার তৈরি খাবার এবং শাকসবজি ও ফলমূলজাতীয় খাবারে মিলবে আঁশ।
৪. গ্রিন-টিতে আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা পেটের মেদ কমাতে খুব বেশি কার্যকর।
৫. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকালবেলা চুষে খান। এই অভ্যাসের ফলে দ্রুত আপনার ওজন কমবে আর পেটের মেদ ঝরবে। কাঁচা রসুন শরীরের রক্তপ্রবাহ সহজ করে। পেটে মেদ জমতে দেয় না।
৬. অনেকেই খাবার খাওয়ার পর বসে থাকেন বা শুয়ে পড়েন। তাদের খাবার সঠিকভাবে পরিপাক হয় না, ফলে পেটে চর্বি জমতে থাকে। সে জন্য খাবার খাওয়ার পর একটানা শুয়ে-বসে না থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত।
৭. বেশীরভাগ চাকরিজীবীরই সারা দিন টেবিল–চেয়ারে বসে কাজ করতে হয়, তাঁদের পেটে সহজে মেদ জমে যায়। তাই তাঁদের উচিত ৩০-৪০ মিনিট বসে কাজ করার পর উঠে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা।
৮. পর্যাপ্ত গুমান। কারণ নিদ্রাহীনতা বা ইনসমনিয়া ভুঁড়ি না কমার একটা বড় কারণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ঘুম ঠিকমতো না হলে ওজন বেড়ে যায়। ঘুম ঠিক না হলে উলটোপালটা খাবার খাওয়ার অভ্যেস বেড়ে যায় আমাদের। এর ফলে পেটে চর্বি জমতে থাকে।
সাবধানতা
অনেকেই আছেন যারা ওজন ও পেটের মেদ কমানোর চক্করে খাওয়া-দাওয়া একদম কমিয়ে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্র্যাশ ডায়েট শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমিয়েছেন, এমন অনেকেই আছেন যারা কয়েকদিন ওজন কমানোর পর তাদের ওজন দ্বিগুণ দ্রুত বৃদ্ধি হতে দেখেছেন।
তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে সঠিকভাবে সুষম খাওয়া-দাওয়ার সাথে ওজন ও পেটের মেদ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। শরীর যেনো পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাচলার মাধ্যমে শরীরকে ফিট ও সচল রাখতে হবে।
এই গরমের দিনে সানস্ক্রিন কয়বার মাখবেন
গরমে পান্তা ভাত খাবেন নাকি খাবেন না?