হেফাজতের সাবেক নেতা মামুনুল হক জামিনে মুক্ত

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৫:১৯ এএম

হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কারাগারের প্রধান ফটক থেকে বের হন। এ সময় কারা ফটকের সামনে হেফাজতে ইসলামের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, মামুনুল হক কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩৭টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ মামলায় তিনি গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। বিকেলে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা থাকায় সব মামলার জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। গতকাল সকালে জামিনের সব কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর সহিংসতার ঘটনায় আলোচিত ছিলেন মামুনুল। সে সময় ঢাকায় বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ১৭ জন। ওই বছরের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পরে ওই রিসোর্টে সঙ্গে থাকা নারী মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সহিংসতার মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়। যারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৩৭টি মামলা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব থাকলেও সংগঠনে মামুনুলের প্রভাব ছিল জোরালো। সংগঠনের নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকাও ছিল স্পষ্ট। পুলিশ জানিয়েছিল, মামুনুল হক কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল সরকার উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। মামুনুল ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় জড়িত জঙ্গিদের ‘ঘনিষ্ঠ’ ছিলেন এবং তাদের একজনের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস পাকিস্তানেও ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত