ডা. ফারজানা ইসলাম বীথি
গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, আলোক হাসপাতাল
স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যানসার ছাড়াও মহিলাদের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ক্যানসার মানেই জটিল রোগ। কিন্তু মারণ রোগ এমনটা প্রথমেই ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রাথমিক স্তরে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়লে ঠেকানো যায় মৃত্যুর ঝুঁকি। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব ওভারিয়ান ক্যানসার দিবস’। মেনোপজের পর অনেক মহিলাই ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। কিন্তু প্রাথমিক স্তরে বুঝতে পারেন না যে, দেহে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ। মহিলাদের প্রজনন অঙ্গ ডিম্বাশয়ে বেড়ে ওঠা এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো চিনে নিন।
লক্ষণ
সাধারণত এ রোগের লক্ষণসমূহ শুরুর দিকে অস্পষ্ট থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি অ্যাডভান্স স্টেজে (রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর) চিহ্নিত হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে অদ্যাবধি কোনো নির্ভরযোগ্য স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চিকিৎসাক্ষেত্রে তৈরি হয়নি। তবে নিম্নলিখিত লক্ষণসমূহ দেখা দিলে ডিম্বাশয় ক্যানসারের বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ধারাবাহিক ক্ষুধামন্দা।
পেট ভরা ভরা লাগা।
হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া।
পেট স্বাভাবিকের তুলনায় ভারী ভারী লাগা।
পেট ফুলে যাওয়া।
পেটে ব্যথা অনুভব করা।
ঝুঁকিতে যারা
নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই।
সাধারণত ৮০ শতাংশই পোস্ট মেনোপোজাল অর্থাৎ পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলা।
যারা বন্ধ্যত্ব সমস্যায় আক্রান্ত।
যাদের সন্তানসংখ্যা সীমিত।
পারিবারিক আক্রান্তের ইতিহাস রয়েছে।
প্রতিকার
নিয়মিত বাৎসরিক চেকআপ।
প্রাথমিক লক্ষণ টের পেলে পুরো পেটের আলট্রাসনোগ্রাম করা।
ঈঅ ১২৫ রক্তের টিউমার মার্কার করা।
চিকিৎসা
কার্যকর চিকিৎসার জন্য রোগটি দ্রুত শনাক্ত হওয়া জরুরি। শুরুর দিকে শনাক্ত হলে অপারেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অন্যথায় কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে যদি পরিপূর্ণ স্টেজিং অপারেশন করা যায় তবে কেমোথেরাপি না দিয়েও চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে অ্যাডভান্স স্টেজেও অপারেশনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সিংহভাগ রোগীই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা এবং ট্রিটমেন্ট রেজিস্ট্যান্সের জন্য। এ রোগের অধিক মৃত্যুহারের আরেকটি মূল কারণ দেরিতে শনাক্তকরণ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। এই ভয়াবহ রোগের কবল থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা।
