বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লিচুর রাজ্য বিজয়নগর

  • ৪৩০ হেক্টর জায়গায় লিচুর আবাদ
  • লিচু বাগান ৯০০টিরও বেশি
  • ২০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির লক্ষ্য
আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা লাল মাটির এলাকা। এই উপজেলায় সব ধরনের সবজি ও ফলের ভালো উৎপাদন হয়। বিশেষ করে ফলের মৌসুমে লিচুর আবাদ হয় সবচেয়ে বেশি। এখানকার লিচু রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশ জুড়ে এর খ্যাতি রয়েছে।

উপজেলায় এবারও লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে তীব্র গরমের কারণে লিচু একটু ছোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগানিরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন তীব্র গরমের কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে যাদের বাগানে পানি সেচের ব্যবস্থা রয়েছে তাদের লিচুর সাইজ ঠিক আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অর্ধশত বছর আগে এই উপজেলায় লিচুর চাষ শুরু হয়। জায়গা ও শ্রম কম হওয়ায় লিচুর ব্যবসা শুরু করেন স্থানীয় কৃষকরা।

বিজয়নগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে উপজেলার বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামালমুড়া, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, বক্তারমুড়া, রূপা, শান্তামুড়া, কামালপুর, কচুয়ামুড়া, গোয়ালনগর, ভিটিদাউপুর, পত্তন, এলাকায় লিচুর বাগান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই ১/২ টি করে লিচু গাছ আছে। যাদের বাড়িতেই একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেক বাড়িতে লিচুর গাছ লাগান। এসব গাছে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি, চায়না-২ ও এলাচি জাতীয় লিচুর ফলন হয়।

এ বছর তাপদাহের কারণে লিচুর কিছুটা ক্ষতি হয়েছে

উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত আউলিয়া বাজার। এছাড়াও সিংগারবিল, হরষপুর, চম্পকনগর বাজারে বিক্রি হয় অধিকাংশ লিচু। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, শ্রীমঙ্গল,  হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, শায়েস্তাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে লিচু কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিন ভোর রাতে আউলিয়া বাজারে বসে লিচুর সবচেয়ে বড় হাট। এই হাটে প্রতিদিন বিক্রি হয় কোটি টাকাও বেশি লিচু। 

উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের কচুয়ামুড়া, ভিটিদাউদপুর, সেজামুড়া ও কামালমুড়ার,খিলামুড়া, পাহাড়পুর এলাকার বিভিন্ন বাগানে ঘুরে দেখা যায়, বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানিরা। এ সময় কথা হলে পাহাড়পুর ইউনিয়নের কচুয়ামুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসাইন  বলেন, ‘আমার দুইটি বাগানে ৪৩টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বছর খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর সাইজ একটু ছোট হয়েছে। তারপরেও তিন লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’

সেজামুড়া গ্রামের বাগান মালিক মো. আসাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার ৬টি বাগানে ১২৪টি গাছ আছে। এ বছর প্রচুর লিচুর ফলন হয়েছে। কিন্তু গরমের তাপে লিচু একটু ছোট হয়েছে। এই ছোট হওয়াতে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি আশাবাদী এ বছর ১০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘উপজেলায় এ বছর ৪৩০ হেক্টর জায়গায় লিচুর আবাদ হয়েছে। লিচু বাগান আছে ৯০০টিরও বেশি। এ বছর ২০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘এ বছর তাপদাহের কারণে লিচুর কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও পানি সেচের মাধ্যমে কৃষক বাগান পরিচর্যা করায় এখন লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। যদি তাপদাহ না হত তাহলে লিচুর ফলন আরো বাড়ত। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

এদিকে একাধিক লিচু চাষি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কৃষি বিভাগের কোনো সাহায্য বা তাদের পক্ষ থেকে কাউকে তারা বাগানের কাজে পাননি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কৃষি অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। ৩০ কর্মকর্তার স্থলে রয়েছে ১৮ জন। জনবল কম হওয়ায় সব বাগানে তদারকি করা যাচ্ছে না।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত