চিন্তায় নাসাউয়ের উইকেট আর বাতাস

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম

বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যখন নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে গেলেন, তীব্র বাতাসে তার জার্সি তখন ফুলে উঠছে। তির তির করে কাঁপছে। তাতেই বোঝা যাচ্ছে জোরালো বাতাস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে রাখবে বিশেষ ভূমিকা। আজ নিউ ইয়র্কে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।  

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটা ভেস্তে যায় বৈরী আবহাওয়ায়। নিউ ইয়র্কের আবহাওয়া এই সময়ে বেশ রৌদ্রোজ্জ্বল, উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘণ্টায় ১১-১২ কিলোমিটার গতিবেগে বইছে বাতাস। আশপাশে প্রচুর ফাঁকা জায়গা বলেই বাতাসের প্রবাহ বইছে বিনা বাধায়। নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির মাঠটাও মাস পাঁচেক আগে ছিল সেই বিশাল শূন্যতারই অংশ, সেখানেই অল্প সময়ে এমন ঝাঁ-চকচকে স্টেডিয়াম নির্মাণ অবাক করেছে শান্তকে, ‘অবিশ্বাস্য, আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা আজগুবি একটা ব্যাপার। এসে যখন স্টেডিয়ামটা দেখলাম, উইকেট এবং পরিবেশ; সব মিলিয়ে সত্যি সত্যি খুব ভালো লেগেছে। ক্রিকেট নিয়ে এই আয়োজনটাও আমার কাছে অবাক করার মতো। আমরা সব সময় শুনি যে এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) প্রচুর বেসবল, বাস্কেটবলের চর্চা হয়, আশা করিনি এখানে ক্রিকেটের এত ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। ইন্টারনেটে যখন আমরা এই স্টেডিয়ামের খোঁজ করি, তখন জেনেছিলাম যে ৫ মাস আগেও এখানে কিছু ছিল না। এখন দেখছি, একদম ঠিকঠাক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এসে খুব ভালো লাগছে।’

গতকাল সেখানে এসেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। এই মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত। নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়াম দেখে রোহিতের কণ্ঠেও মুগ্ধতা, ‘এটা বেশ খোলা একটা মাঠ। এ রকম সময়ে এ ধরনের স্টেডিয়াম খুব একটা দেখা যায় না। মাঠ দেখতে এলাম, এখানেই আমরা প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলব। আমরা চাইব যত দ্রত সম্ভব মানিয়ে নিতে, কন্ডিশনের সঙ্গে, যাতে করে ৫ তারিখে আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাচটা খেলব (প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড), তখন যেন সবাই তৈরি থাকে। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দারা আর অন্য যেসব দেশ থেকে আসা সমর্থকরা মাঠে আসবেন, তারা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা পাবেন। খেলোয়াড় হিসেবে যেটা বলব, মাঠে নামতে আর তর সইছে না।’

অনুশীলনে রিশাদ। ছবি: বিসিবি

ভারতের ক্রিকেটাররা অনুশীলন করেছেন মূল ভেন্যুর থেকে একটু দূরে অনুশীলন মাঠে। সেখানে বিরাট কোহলি ছাড়া দলের বাকি সবাই উপস্থিত ছিলেন। ড্রপ ইন উইকেটে অসমান বাউন্স সামাল দিতে বেশ অসুবিধায় ভুগেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, জানিয়েছে দেশটির বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ছিল অসন্তোষ। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করেনি ভারতীয় দল।

নিউ ইয়র্কের মাঠে থাকবে ড্রপ ইন উইকেট। অ্যাডিলেডে প্রস্তুত করা ১০টি উইকেট প্রথমে জাহাজে ও তারপর বিশাল কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে আসা হয় নিউ ইয়র্কে। পিচ প্রস্তুত করা কিউরেটর ডেমিয়েন হাউ জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টির উপযোগী উইকেটই বানাতে চেষ্টা করেছেন, ‘আমরা আশা করেছি ভালো টি-টোয়েন্টি উপযোগী উইকেট বানাতে। ভালো পেস, ভালো বাউন্স, প্রতিটি শটের জন্য যথার্থ হয়। আমরা চেয়েছি ব্যাটসম্যানরা যেন উইকেটের চারদিকে শটস খেলতে পারে আর এই অভিলাষ নিয়েই আমরা উইকেটগুলো বানিয়েছি।’

বাতাস, উইকেটের বাউন্স; সবই বাংলাদেশের বিপক্ষে যাবে। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তো জনবহুল শহরে কংক্রিটের জঙ্গলের ভেতর এক টুকরো মাঠে খেলে অভ্যস্ত, যেটা পুরোটাই আবার গ্যালারি দিয়ে ঘেরা। মিরপুরের উইকেটের বাউন্স কেমন, সেটা নিয়ে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে নবীন রিশাদ হোসেন- দুজনের কাছে সে এক ধাঁধা। তার ওপর বাংলাদেশের কমজোরি ব্যাটিং আর অন্যদিকে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং। সবকিছুর রসায়নে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের চেয়ে বড় হার এড়ানোটাই মঙ্গলজনক। কারণ মূল আসর শুরুর আগে একটা ব্যাটিং বিপর্যয় মনোবলকে তলানিতে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত