বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে দ্বিতীয়বার যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। তবে প্রথম বার যে ধরনের এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় পরের বার সে ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনের স্ট্রেইন। ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। বর্তমানে ডেন-৩ এ বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ডেঙ্গু হলে কেউ কেউ শকে চলে যান। চামড়া ভেদ করে রক্ত চলে এসে চামড়ার ওপর কালো দাগ পড়া, কালো পায়খানা হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত ঝরাসহ বেশ কিছু সমস্যা ডেঙ্গু শকের উপসর্গ। ডেঙ্গু শক হলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিভার ও হার্টের ক্রিয়া ক্ষমতা হ্রাস পায়। ডেঙ্গুকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। প্রথমবার ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর আক্রান্ত ব্যক্তি দুই থেকে তিন মাস ভালো থাকে। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তি বাকি তিনটি ডেঙ্গু সেরোটাইপগুলোর মধ্যে যে কোনোটিতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত কোনো রোগজীবাণুতে সংক্রমণের পর দেহ দীর্ঘ সময়ের জন্য সংক্রমণের ব্যাপারে মনে রাখে। কারণ কোষ-মেমোরি বি কোষ এবং মেমোরি টি কোষগুলো শরীরে থাকে। যেহেতু তারা প্রথম সংক্রমণের কথা মনে রাখে, যখন এই সংক্রমণ দ্বিতীয়বার আঘাত করে, তখন এই মেমোরি কোষগুলো একটি অভিযোজিত প্রতিক্রিয়া সরবরাহ করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। মেমোরি কোষগুলো কোনো ব্যক্তির শরীরে অনেক বছর ধরে থাকতে পারে, এমনকি সারা জীবন। তাহলে, কেন এই মেমোরি কোষগুলো দ্বিতীয় ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে না।
দ্বিতীয় সংক্রমণ কেন খারাপ
যেহেতু চারটি বিভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে। তবে মেমোরি কোষগুলো কেবল ডেঙ্গু সেরোটাইপের সঙ্গে পুনরায় সংক্রমণ থেকে আক্রমণ না করার সিগন্যাল দেয়। যা প্রথম সংক্রমণের কারণ হয়েছিল। যখন কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু সেরোটাইপে সংক্রামিত হয়, তখন প্রথম সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলো ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে এবং রক্তপ্রবাহে ভাইরাসের পরিমাণ বাড়িয়ে ভাইরামিয়া বাড়াতে সহায়তা করে। তখন ভাইরাসটি ধ্বংস করার পরিবর্তে, মেমোরি বি কোষ দ্বারা নতুনভাবে তৈরি অ্যান্টিবডি ভাইরাস বহনকারী কোষগুলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে সংক্রামিত করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ডেঙ্গু আক্রান্তের পথ করে দেয়। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ইমিউন সিস্টেম দ্বারা উৎপাদিত সাইটোটোক্সিক টি কোষগুলো নতুন ডেঙ্গু সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কেবল আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা সরবরাহ করে। সাইটোঅক্সিক টি কোষগুলো কার্যকরভাবে দেহ থেকে ভাইরাসটি সরিয়ে দেয় না। সাধারণ অবস্থায় সাইটোকাইনগুলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে উচ্চ পরিমাণে সাইটোকাইনগুলো মারাত্মক প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতিসাধন করে। ফলে মারাত্মক ডেঙ্গু রোগের বিকাশ ঘটায়।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু সংক্রামিত ব্যক্তিরা অ্যান্টিবডি-নির্ভর বর্ধন নামে কিছু অনুভব করতে পারেন। এই অবস্থা ঘটলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল লক্ষণগুলোকে আরও খারাপ করে তোলে এবং গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। একবার যে ধরনের এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় পরের বার সেই ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না ।
