চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশ ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কর্ণফুলী থানার ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গবন্ধু টানেল সংযোগ সড়কের মুখে ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির অনুসারীরা পৃথক মিছিল বের করে উপজেলার বন্দর সেন্টারে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন। সেই ঘটনায় পুলিশ আসামি ধরতে গেলে এলাকাবাসী বাধা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির হোসেন বলেন, গত শুক্রবার আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়। শনিবার রাতে ওই মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হকের অবস্থান জানতে পেরে পুলিশ আনোয়ারার বঙ্গবন্ধু টানেল সড়কের মুখে অভিযান চালায়।
মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তোলার সময় কয়েকশ লোক এসে হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর লাঠিসোটা দিয়ে হামালা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সেখান থেকে ফেরার পথে আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আবার তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামি মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় কর্ণফুলী থানার ওসি ও আনোয়ারা থানার ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়েছে।
