এবার গরিবের গোশতে হোটেলমালিকদের থাবা

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম

আজ সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার বন্ধ গেটের সামনে অপেক্ষাধীন দেখা যায় ১৫-২০ মানুষকে। কৌতূহল মেটাতে সামনে গিয়ে দেখি গেটের ভেতরে কোরবানির গোশত কাটাকাটির কাজ চলছে। বাইরে যারা অপেক্ষায় তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য।

এদের কেউ রিকশা চালান, কেউ দিনমজুর, মৌসুমী কসাই, ছোট ছোট টংয়ের দোকান দেন কিংবা শহরের বিভিন্ন মোড়ে ভিক্ষুকের কাজ করেন। গোশত কাটাকাটি শেষ হলে কোরবানি দাতার কাছ থেকে গোশতের ভাগ পাওয়ার আশায় তারা হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

এটা কেবল কাঁঠালবাগান এলাকার দৃশ্যই নয় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই এ রকম গোশত প্রত্যাশীদের দলের দেখা মিলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় তাদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। এই গোশত প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সারাদিন তারা যে গোশত পাবেন তার একটা অংশ খাওয়ার জন্য রেখে বাকিটা রাজধানীর বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ হাটে করে দেবেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট, কারওয়ান বাজার, আজিমপুর, মিরপুর এলাকায় তাদের মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়। এরমধ্যে খিলগাঁও রেলগেটে মাংস বিক্রেতাদের বড় ভিড় জমেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হাট গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ঈদের দিনে বসে। শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা এখান থেকে গোশত কিনেন। কিন্তু এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট হোটেলের মালিকরাও। এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ কেউ ও গোশত কিনতে আসছেন।

গোশত কিনতে আসা ফিরোজা বেগম বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই এই হাটে এসেছি গোশত কিনার জন্য। ছেলেটা সকাল থেকে মাংসের জন্য কাঁদছে। আমি গতবারও এই হাট থেকে মাংস কিনেছি। এবার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। গরিব মানুষের মাংস কিনতে নাকি হোটেলের মালিকরা এসে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

গোশত কিনতে আসা সেলিম বলেন, এই হাটে কসাইদের কাছ থেকে যারা মাংস কিনছে সেই মাংসের দাম বেশি। কেননা কসাইদের মাংসে ময়লা থাকে না, হাড্ডি কম থাকে, ফলে চাহিদা ও দাম বেশি। ভালো মাংস এখানে ৬০০-৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর যারা বাসায় বাসায় মাংস চেয়ে নিয়ে এসেছে তাদের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৫৫০ টাকায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোশত কিনতে আসা একটি হোটেলের মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, মতিঝিলের একটি ফুটপাতে আমার হোটেল। এই হাটে বাজারের চেয়ে কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে শুনে এসেছি। এই মাংস নিয়ে ফ্রিজে রেখে দেব এবং ঈদের পর যথারীতি হোটেলে বিক্রি করবো।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত