সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাঁচতে চান বিটিভি ও বেতারের শিল্পী খোকন

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০৫:০৯ পিএম

বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী মনিরুল ইসলাম খোকন (৬০) দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে তার। খোকনের হৃদযন্ত্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বসাতে হবে পেসমেকার। এতে খরচ হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। খোকনের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার ঝর্ণা স্বামীর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়েছেন। 

খোকনের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খান বানিয়ারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ও দুই সন্তানের বাবা।

শুক্রবার (২১ জুন) খোকন জানান, কৈশোরেই সংগীতজগতে পা রাখেন তিনি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেন। বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিতে শিল্পী হিসেবে তার লেখা ও সুর করা শতাধিক গান সম্প্রচারিত হয়েছে।

১৯৭৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয় খোকনের। অনেক টাকা ব্যয়ে সুস্থ হন তিনি। এরপর থেকে গান শেখাতেন। এভাবেই চলত সংসার। মাঝে মধ্যে বেতার ও টিভিতে ডাকলে সম্মানি পেতেন। মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বেশ কিছু গান করেছেন তিনি। এছাড়াও তার লেখা গান গেয়েছেন শিল্পী কনকচাঁপা, শাকিলা জাফর, এমএ হামিদসহ অনেকেই। সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন একাধিক পুরষ্কারও।

২০১৯ সালে খোকনের হার্ট অ্যাটাক হয়। এর ফলে কোনো অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পান না। জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে সামান্য ভাতা পান। কিন্তু বেতার ও টিভিতে গান রেকর্ডের জন্য তাকে ডাকা হয় না। এই পরিস্থিতির মধ্যে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাদ পড়েন খোকন। শুরু হয় অর্থকষ্টের দিন।

২০২২ পর্যন্ত সংগীত সাধনা চালিয়ে যাওয়া খোকনের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার হৃদযন্ত্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পেসমেকার বসাতে হবে। এতে খরচ হবে ১০ লাখ টাকা। খোকন ও তার পরিবারের পক্ষে এই খরচ মেটানো সম্ভব নয়। ফলে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কাটছে শিল্পী খোকনের দিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসু বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকদিনের মধ্যে তাকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া অসহায় ও দুস্থ সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুদানের জন্য তার একটা আবেদন ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত