সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, সবাইকে শুভেচ্ছা। তোমরা জানো, এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্র পুনর্বিন্যস্ত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। সৃজনশীল অংশে ‘ক’ বিভাগে নির্ধারিত ৭টি গদ্য (অপরিচিতা, বিলাসী, আমার পথ, মানব-কল্যাণ, মাসি-পিসি, বায়ান্নর দিনগুলি, রেইনকোট) থেকে ৪টি, ‘খ’ বিভাগে ৭টি কবিতা (সোনার তরী, বিদ্রোহী, প্রতিদান, তাহারেই পড়ে মনে, আঠারো বছর বয়স, ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি) থেকে ৩টি এবং ‘গ’ বিভাগে উপন্যাস (লালসালু) ও ঘ বিভাগ নাটক (সিরাজউদ্দৌলা) থেকে ২টি করে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থেকে যে কোনো ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ক বিভাগ গদ্য থেকে কমপক্ষে ২টি, খ বিভাগ কবিতাংশ থেকে কমপক্ষে ২টি, গ বিভাগ উপন্যাস থেকে কমপক্ষে ১টি ও ঘ বিভাগ থেকে কমপক্ষে ১টিসহ মোট ৭টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। বহুনির্বাচনী অংশে ৩০টি প্রশ্ন থাকবে। সব কটির উত্তর দিতে হবে। বহুনির্বাচনী অংশের জন্য নির্ধারিত সময় ৩০ মিনিট।
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনী অংশে নির্ধারিত ৭টি গদ্য থেকে ১২টি, ৭টি কবিতা থেকে ১২টি, উপন্যাস থেকে ৩টি ও নাটক থেকে ৩টি মোট ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। এ অংশে ভালো করতে মূল বই বারবার পড়বে। গুরুত্বপূর্ণ লাইনের নিচে দাগ দিয়ে রাখবে। শব্দার্থ ও টীকা বারবার পড়বে। কবিতা, প্রবন্ধ বা গল্পের মূল বিষয়বস্তু অবশ্যই তোমাকে বের করতে হবে। নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখা নৈর্ব্যক্তিকের ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজন। কবি বা লেখকের জন্মস্থান, জন্ম-মৃত্যু সাল, গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার বা গ্রন্থের নাম মনে রাখবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন
ক. জ্ঞানমূলক অংশ : এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে পাঠ্যবই হতে এক কথায় বা এক বাক্যে সঠিক উত্তর দেবে; এখানে কোনো বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের দরকার নেই। এ অংশে এক কথায় উত্তর না করে এক বাক্যে উত্তর করা শ্রেয়। পূর্ণ বাক্য না লিখলেও তুমি এখানে পূর্ণ ১ নম্বরই পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, জ্ঞানমূলক প্রশ্নে যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, সেটার বানান ভুল করলে শূন্য পাবে।
খ. অনুধাবনমূলক : এ স্তরকে জেনে, বুঝে লেখার স্তর বলা হয়। তুমি যা পড়েছ মূল বইয়ের সেই ভাবটি এখানে ব্যাখ্যা করতে পারো কিনা বা বিষয়টি সম্পর্কে তোমার ধারণা কেমন তা চাওয়া হয়। প্রদত্ত নম্বর-২ (১+১) প্যারা দুটি : জ্ঞানমূলকে-১ চিন্তন বিশ্লেষণে-১। প্রথম প্যারাতে প্রশ্নে যা চাইবে এক কথায় উত্তরের মূল অংশ জ্ঞান আকারে লিখবে আর দ্বিতীয় প্যারাতে ব্যাখ্যা করে সেটা সর্বোচ্চ ৩-৪ বাক্য হলে ভালো হয়। ‘খ’ অংশ, অর্থাৎ অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর সর্বোচ্চ ৫ বাক্যে উত্তর লেখা যেতে পারে।
গ. প্রয়োগমূলক অংশ : উদ্দীপক পড়ে এ স্তরে অনুধাবনলব্ধ বিষয়টি তুমি নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারো কি না তা দেখা হয় এ অংশে। উদ্দীপক ও মূল বইয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ এবং তা জেনে-বুঝে ব্যাখ্যা করার অনন্য সুযোগ রয়েছে এখানে। বাংলা প্রথম পত্রের প্রদত্ত গদ্য, কবিতা ও সহপাঠের মূল অংশের সঙ্গে উদ্দীপকের মিল বা অমিলই চাওয়া হবে এখানে। এখানে, প্রদত্ত নম্বর-৩ (১+১+১); ১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে এবং ১ নম্বর প্রয়োগে। তাই প্রয়োগমূলকের উত্তর তিন প্যারায় করাই ভালো।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক : এ স্তরকে বলা হয় বিষয়ভিত্তিক সংশ্লেষণ, বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করার ক্ষমতা। এ জাতীয় প্রশ্নে তোমাকে চিন্তন দক্ষতার উচ্চতর ভাবনার প্রতিফলন প্রকাশ করতে হবে। এখানে, প্রদত্ত নম্বর-৪ (১+১+১+১); ১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে, ১ নম্বর প্রয়োগে এবং ১ নম্বর উচ্চতর দক্ষতায়। আমরা জানি, উচ্চতর দক্ষতা মানেই একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখানে তুমি চারটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে পারো। এখানে উদ্দীপক, মূলপাঠ্য বিষয় ও পারিপার্শ্বিক জীবনব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে তোমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারো। মনে রাখতে হবে, ‘পেটমোটা’ উত্তর দেওয়া যাবে না। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর হবে ‘চর্বিশূন্য বা জিরোফ্যাট।’
বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশে : সময় সচেতনতা
হ্যাঁ, বিষয়টি আমরা অনুধাবন করে থাকি। সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মোট সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। মোট মিনিট যোগ করলে দাঁড়ায় ১৫০ মিনিট। ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থেকে মোট ৭টি প্রশ্নের উত্তর করার জন্য সময় পাবে ১৫০ মিনিট। এর মধ্যে ১১টি উদ্দীপক পড়তে হবে, ভাবতে হবে, কল্পনা করতে হবে, পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মেলাতে হবে, সিদ্ধান্তও নিতে হবে। ১৫০ মিনিটকে যদি ৭ দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ ২১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের মতো। বাস্তবতা হলো, একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য তুমি আসলে কোনোভাবেই ১৮-২০ মিনিটের বেশি সময় পাবে না। আর যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরের মান হচ্ছে ১০। তুমি ১ নম্বরের বিপরীতে দুই মিনিটের বেশি সময় পাবে না। এ জন্য তোমাকে প্রতিটি প্রশ্ন উত্তর করার ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে। ওপরের সৃজনশীল লেখার নিয়ম লক্ষ্য করে ভালোভাবে চর্চা করো। তুমি পারবেই, আমি বিশ্বাস করি!
তোমাদের জন্য শুভ কামনা!
