বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি: বেঞ্চ সহকারী তিন দিনের রিমান্ডে 

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৫ পিএম

বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৯ এর বেঞ্চ সহকারী খন্দকার মোজাম্মেল হক জনির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল বুধবার একই আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. নূরে আলম বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় এ মামলাটি দায়েন করেন।

মামলার এজাহারে তিনি বলেন, আসামি জনি শেরেবাংলা নগর থানার এক মামলায় ২০২২ সালে ৯ ও ২১ মার্চ দুটি ভিন্ন আদেশ নথিতে লিপিবদ্ধ করেন। যাতে প্রদত্ত স্বাক্ষর আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞ বিচারকের নয়। বর্ণিত মামলায় ২০২২ সালের ২১ মার্চ প্রচারিত আদেশে আসামি অহিদুজ্জামানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৯ ধারা অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদেশের স্বাক্ষর অত্র আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞ বিচারকের নয়। আদেশ বেঞ্চ সহকারী খন্দকার মোজাম্মেল হক জনি কর্তৃক লিখিত হওয়ায় এটি সুস্পষ্ট হয়, তিনি বিজ্ঞ বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের বরখেলাপ করে তার অগোচরে এই আদেশ প্রচার করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৩ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানার এক মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য বিজ্ঞ বিচারকের আদালতে পাঠানো হয়। সেই মামলায় বিচারকের অগোচরে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল আসামি নাসির উদ্দিন ও আশিকুর রহমানকে প্রবেশন দেওয়ার আদেশ কজলিস্ট ও কোর্ট তিনি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন। যদিও এরূপ কোনো আদেশ বিচারক প্রচার করেননি। এমনকি নথিটি শুনানির জন্য বিচারকের কাছে উপস্থাপনও করা হয়নি। আসামি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এরূপ ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। গত ৩০ জুন তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি গত ১ জুলাই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে। তার লিখিত ব্যাখ্যা থেকেও এটি সুস্পষ্ট যে, তিনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এসব হীন অপরাধ সংঘটন করেছেন, যা চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত