অলস প্রকৃতির রাসেলস ভাইপার, তেড়ে এসে কামড়ায় না

  • ১১ বছরে ২৭ জেলায় ছড়িয়েছে
  • সব দংশনে বিষ দেয় না রাসেলস ভাইপার
  • মৃত্যুর কারণ দেরিতে হাসপাতালে আসা
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৫ এএম

দেশে ২০১৩ সালে প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর গত ১১ বছরে সেখান থেকে দেশের ২৭ জেলায় সাপটি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে এ সাপের বিস্তার বেশি।

অলস প্রকৃতির এ সাপ নিজে থেকে তেড়ে এসে কখনো কামড়ায় না। বিরক্তের একপর্যায়ে দ্রুতগতিতে ছোবল দেয়। তবে সব দংশনে বিষ দেয় না। একটি প্রাপ্তবয়স্ক সাপের মধ্যে থাকা ১৫০-২০০ মিলিগ্রাম বিষের মধ্যে সাপটি কতটুকু বিষ দেবে, তা নির্ভর করে সাপের মর্জির ওপর।

এখন পর্যন্ত এই সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর হার ২৯ শতাংশ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মৃত্যুর কারণ দেরিতে হাসপাতালে আসা। মোট রোগীর ৬৭ শতাংশই প্রথমে ওঝার কাছে যান। পরে হাসপাতালে আসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রকল্প চট্টগ্রামের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের দুই গবেষক দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান। তারা হলেন সেন্টারের মুখ্য গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ ও সহযোগী গবেষক মিজানুর রহমান।

অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, এ দেশেরটাও পৃথিবীর অন্যসব রাসেলস ভাইপারের মতোই। গায়ের রঙ বাদামি। গায়ে শিকলের মতো কালচে গোল গোল দাগ থাকে। শব্দ করে চলে। ফণা তোলে না। এক জায়গায় চুপ করে পড়ে থাকে। অলস প্রজাতির। মানুষ বা বড় কোনো প্রাণী কাছাকাছি এলে ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে খুব জোরে জোরে হিসহিস শব্দ করে, কিন্তু কামড়ায় না। ওকে কেউ বিরক্ত না করলে ও জায়গা থেকে নড়ে না। খাবার না দেখলে জায়গা থেকে নড়ে না। কেউ যদি ওর গায়ের ওপর না পড়ে ও কিছু বলবে না। কিন্তু গায়ের ওপর পা পড়লে বা স্পর্শ করলে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছোবল মারে।

এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান বলেন, সব বিষধর সাপের ভেনম থাকে মূলত তাদের খাবার সংগ্রহের জন্য। তাদের মূল খাবার ফসলি জমিতে বা বাসাবাড়িতে যেসব ইঁদুর থাকে সেগুলো। ইঁদুরকে শিকার করার জন্য ভেনম ছুড়ে দেয়। ইঁদুরটা মারা যায়। তখন তাকে ধরে খায়। মানুষ কিন্তু তার শিকার না। মানুষকে ভেনম দেয় আত্মরক্ষার জন্য। সাপের বিপদসীমার মধ্যে ঢুকে গেলে বা তার শরীরে পা পড়লে তাকে দংশন করে।

এই গবেষক আরও বলেন, যত সর্প দংশন হয়, তার ৮০ শতাংশ দংশন হয় মানুষের দুই পা ও দুই হাতে। কৃষক ধান কাটতে গিয়ে দংশনের শিকার হচ্ছে। কারণ ক্ষেতের মধ্যে ইঁদুর ধরার জন্য রাসেলস ভাইপার থাকে। তবে রাসেলস ভাইপার তার আশপাশে কেউ এলে সে দ্রুত বুঝতে পারে। যেটা অন্য সাপ বুঝতে পারে না।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত