বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের গাছে গাছে ঝুলছে (ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট বার্ড নেস্ট) বা দুর্যোগ সহনশীল পাখির বাসা। সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গেলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। সাধারণত, দেশে এ পর্যন্ত যত সংগঠন বা পাখিপ্রেমীরা পাখিদের নিরাপদ আবাসনের জন্য কৃত্রিম ঘরের ব্যবস্থা করেছেন—তা ছিল মাটির তৈরি হাঁড়ি অথবা কাঠের তৈরি বাক্স। কিন্তু, এ বাসাগুলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আর এই ব্যতিক্রমী দুর্যোগ সহনশীল পাখির বাসার উদ্ভাবক শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুমন জিহাদী।
গত মে মাসে বাংলাদেশ উপকূলে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড় রিমাল। সেই ঝড়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের আমগাছের ডাল ভেঙ্গে একটি পাখির ছানাসহ বাসা পড়ে যায়। পাখির ছানাটি উদ্ধার করে তাকে সুস্থ করে তুলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুমন জিহাদী। তখন থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে পাখি রক্ষায় দুর্যোগ সহনশীল বাসা তৈরির কথা ভাবতে থাকেন তিনি। এরপর, নিজের করা নকশায়—শীট এবং অ্যাঙ্গেল দিয়ে দুর্যোগ সহনশীল বাসা তৈরি করে নেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুমন জিহাদী দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিজের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে এই ব্যতিক্রমী ঘর বানিয়েছি। ইতিমধ্যে ৫০টির মতো (ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট বার্ড নেস্ট) বা দুর্যোগ সহনশীল পাখির বাসা তৈরি করেছি এবং উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের যেসব গাছে পাখি বাসা করে সেসব গাছে লাগিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে যে জায়গাগুলোতে বার্ডস কলোনি রয়েছে অর্থাৎ বেশী বেশী পাখি বাসা করে সেসব জায়গায় এগুলো লাগানোর।
উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইউএনওর উদ্ভাবন দুর্যোগ সহনশীল পাখির বাসা, পাখির নিরাপদ আবাসন ও বংশ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহ জামাল সিরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাখিরা না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে না। তাছাড়া, কৃষিতে পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে চাষাবাদে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ভূমিকা রাখছে। ইউএনও শেরপুরের সার্বিক উন্নয়নসহ এ এলাকার প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আল্লাহর সৃষ্টি পশু পাখি নিয়ে ভাবেন। এলাকার তরুণ যুবকদের উচিত পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশি পাখিদের সংরক্ষণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করা।
