চট্টগ্রামে পুলিশের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম

আলাদা পুলিশ কমিশন গঠন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে এবং ৫ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের পর সারা দেশে পুলিশ হত্যার বিচারসহ ১১ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দুই শতাধিক সদস্য বিক্ষোভ করেছেন।

আজ বুধবার (৭ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে সিএমপির সদর দপ্তর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে এ বিক্ষোভ হয়। এ সময় সেনাসদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, সরকার পতনের আগে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কোনো কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকতার্ আত্মগোপনে চলে যান। সরকার পতনের দিনও শিক্ষার্থীদের দমন করতে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর ফলে সিরাজগঞ্জে থানায় ঢুকে ১৩ পুলিশকে হত্যার মতো নারকীয় ঘটনাও ঘটেছে। সারা দেশে অসংখ্য পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনেক পুলিশ সদস্য পদোন্নতিসহ নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, সিএমপিতে অনেক পুলিশ অফিসারকে জামায়াত-বিএনপি ঘরানার তকমা দিয়ে বছরের পর বছর কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের দাবি, আগামী দিনে কোনো সরকারের অধীনে তারা আর চাকরি করবেন না। তাদের জন্য আলাদা পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে। ‘দায়িত্বহীন’ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে। কারণ পুলিশ হতাহতের জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের দায় আছে। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকতার্র উপস্থিতিতে অন্তত দুইশজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে বিক্ষোভকারীরা ‘মন্ত্রীদের দালালেরা—এমপিদের দালালেরা—বিসিএস এর দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ “কথায় কথায় চাকরিচ্যূতের হুমকি চলবে না চলবে না” “আমার ভাই মরলো কেন জবাব চাই জবাব চাই” বলে স্লোগান দেন।  বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক পুলিশ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আসছি। পুলিশের চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা ছাত্র—জনতার মুখোমুখি হয়েছি। গত ৫ আগস্ট সরকারের পদত্যাগের পর আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ঊর্ধ্বতন অফিসাররা আত্মগোপনে চলে যান। আমরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আতঙ্কে অনেক পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে আছে।’  

সাজিদ হোসেন নামে এক কনস্টেবল বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর অনেক পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে পুলিশ লাইন, থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ বক্সে। হতাহত হয়েছে শত শত পুলিশ। আমরা এসবের নিন্দা জানাই।’

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের দাবি তারা কোনো দলীয় সরকারের অধীন আর কাজ করবেন না। পুলিশের একটি স্বাধীন কমিশন গঠন চায় তারা। তাদের মেসেজগুলো সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকতার্দের কাছে পাঠাব।’

পুলিশের অধঃস্তন কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সার্বিক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো—পুলিশ হত্যা এবং পুলিশী স্থাপনায় ধ্বংসযঞ্জ চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা। নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, আজীবন পেনশন— রেশনের প্রাপ্তির ব্যবস্থা, পরিবারের একজন সদস্য চাকরি নিশ্চিত করা এবং আহত পুলিশ সদস্যের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

পিএসসির অধীনে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও সার্জেন্ট এবং সদর দপ্তরের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা। সাব—ইন্সপেক্টর/ সার্জেন্ট পদে বিদ্যমান পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুয়ায়ী পুলিশের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা করা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ওভারটাইম প্রদানের ব্যবস্থা করা। পুলিশের ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধি, প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে টিএ/ডিএ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা এবং সোর্স মানি নিশ্চিত করা। পুলিশ সদস্যদের বাৎসরিক নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিন বৃদ্ধি করে ৬০ দিন করার ব্যবস্থা। প্রচলিত পুলিশ আইন, পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল সংস্কার। পুলিশের সকল থানা, ফাঁড়ি এবং ট্রাফিক বক্স আধুনিকায়ন করা। পুলিশের অধঃস্তন কর্মকতার্দের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সকল পুলিশ ব্যারাকে বিদ্যমান আবাসিক সংকট নিরসন করে আধুনিকায়ন করা। 

একাত্মতা প্রকাশ করে সিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকতার্ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন।  নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) মাহতাব উদ্দিন, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আবদুল মান্নান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ আহমেদ, উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ, উপকমিশনার (ক্রাইম) নিষ্কৃতি চাকমা এবং উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হুমায়ুন কবীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত