স্কুল পরিদর্শনের যাওয়ার আগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রতিনিধির কাছে টাকার রাখার কথা বলতেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরীফ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুনীতি অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীফ রফিকুল ইসলাম যে কোনো বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার আগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রতিনিধিকে ফোন করে ৩ হাজার টাকা রাখার জন্য বলেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন হয়রানি শিকার হতে হয় শিক্ষকদের। আবার রুটিন মেন্টিন্সে বাবদ ১ হাজার টাকা করে অগ্রিম কেটে রাখেন এ শিক্ষা অফিসার। চলতি বছরে সরকারি সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ৩০ জন সহকারী শিক্ষক ও ৬ প্রধান শিক্ষকের বদলি হয়। এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে তাদের পছন্দের বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। আর যারা টাকা দিতে অপারগত প্রকাশ করলে নেট সমস্যা আছে বলে তাদেরকে যোগদান আটকে রাখেন। বর্তমানে ৬ জনের বদলি আটকে রয়েছে।
বর্তমানে নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১৫২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা অফিসার শরীফ রফিকুল ইসলাম তার অফিসে আইপিএস লাগানোর কথা বলি প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। সম্প্রতি দশটি বিদ্যালয়ে সংস্কার কাজ করার জন্য বরাদ্দ আসে। এই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার ১০ ভাগের বেশি যে ঠিকাদার শিক্ষা অফিসারকে দিতে পারবে সেই ঠিকাদারই কাজ পাবে। এমন অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশ করা সত্ত্বে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘শরীফ স্যার আসার পর থেকে শিক্ষা অফিসে দুর্নীতি বেড়ে যায়। তার এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আছেন কয়েকজন শিক্ষক নেতা। স্যার বিদ্যালয় পরিদর্শন যাওয়ার আগেই ফোন দিয়ে বলেন টাকা রাখার জন্য। টাকা না দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে বিভিন্ন হয়রানি করেন। বর্তমানে আইপিএস এর কথা বলে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন। রুটিন মেনটেইন্যান্স বাবদ ১ হাজার টাকা আগে কেটে রাখেন। বৈষম্য বিরোধী সরকারের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ এ অফিসারকে অপসারণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, দশটি বিদ্যালয় সংস্কারের কাজ আছে। ওনাকে টাকা বাড়িয়ে দিলে উনি আমাদেরকে কাজ দেন। আর টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখেন। উনার একটাই কথা যে টাকা বেশি দিবে সেই কাজ পাবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রাথমিক অফিসার শরিফ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩০-৩৫ টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। কোথাও থেকে একটি টাকাও নেই নি। যা বলছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নেট সমস্যা থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষকের বদলি আটকে রয়েছে। আইপিএস এর জন্য টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সফিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ গুলো এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জানা যায়, শরীফ রফিকুল ইসলাম ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে জেলার দেবীদ্বার উপজেলা থেকে বদলি হয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে যোগদান করেন। তার যোগাদানের পর থেকে কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে হাতে রেখে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।
মাকে পাকা দালান বানিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিলো একটি গুলি
১১ দিন মর্গে পড়েছিল জসিমের মরদেহ
আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার খরচ দেবে সরকার
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবের বাসায় এত টাকা এলো কীভাবে?
অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে
খাগড়াছড়িতে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস, যান চলাচল বন্ধ