মাত্র দশ বছর বয়সে দাখিল পাশ করে অধ্যক্ষ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে আগে একবার হয়েছে হলেও সেই তদন্তে পার পেয়ে যান তিনি।
তবে এবার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আবারও ওই অভিযোগের পুনঃতদন্ত চেয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, আগের অভিযোগের তদন্ত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় তারা পুনঃতদন্তের আবেদন জানান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ হিসাবে আব্দুল আলিম ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে দাখিল পাশ করেছেন মর্মে নিয়োগকালীন সময়ে তার সনদ জমা দিয়েছেন। তার জমা দেয়া সনদ অনুযায়ী ১৯৬৯ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করে ১৯৭৯ সালে দাখিল পাশ করেন। এরপর ১৯৮১ সালে আলিম, ১৯৮৩ সালে ফাজিল ও ১৯৮৫ সালে তিনি কামিল পাশ করেন।
এছাড়াও একটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে যে ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন, নিয়োগকালীন সময়ে তাও তার ছিল না। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে তার জমা দেয়া অভিজ্ঞতার সনদও সঠিক নয়। গত ১৮ বছর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সরকারি সুবিধাভোগীদের নিয়ে মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
এই মাদরাসা পরিচালনায় অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম প্রায় দেড় যুগ থেকে ব্যক্তিগত বিধি, রাজনীতিকরণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড এলাকাবাসীসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সচেতনমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে দেখা যায়, মাথিউরা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার সাথে উপস্থিতির আকাশপাতাল পার্থক্য। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতেও অনীহা প্রকাশ করে। মাদরাসায় কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, সব ঠিক আছে তবে একটি মহল মাদরাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে চায়। তবে ছাত্র উপস্থিতির ব্যাপারে কথা বললে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান তারা।
আনোয়ার হোসেন নামের একজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, পাশের হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভর্তি দেখানো হয় এই মাদরাসায় এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে এদের পাশ করানো হয়।
অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম জানান, ১০ বছরে দাখিল পরীক্ষার বিষয়ের অভিযোগ তদন্ত হয়ে একটি পরিপত্রের মাধ্যমে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উঠা অন্যান্য অভিযোগের কথা তিনি অস্বীকার করেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগের কথা তিনি উড়িয়ে দেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, এমন অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে আগে করা তদন্তের কিছু কাগজপত্র আমাকে দেখিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ দেখবে।
আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার