নৌ অধিদপ্তরের নির্দেশনা জারি

নিষেধাজ্ঞা তালিকার দেশ থেকে জাহাজ বা পণ্য আনা যাবে না

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম

এবার যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা দেশগুলোর জাহাজ কিংবা পণ্য বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাহাজকে বন্দরের কোনো সুবিধা না দেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের ক্ষেত্রে লোড-আনলোড এবং ঝোঝাইয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নৌ অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মাকসুদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই নিষিদ্ধ দেশ থেকে কোনো জাহাজ বা পণ্য আনা নিষিদ্ধ। আমরা যেহেতু সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি তাই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন জাহাজ দিয়ে যেমন পণ্য আনা যাবে না। একইসাথে যেসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেসব দেশ থেকেও পণ্য আনা যাবে না।’

কিন্তু আমরা তো আগেও আনতাম না। তাহলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কমডোর মাকসুদ আলম বলেন,‘ বিষয়টি শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের আবারো মনে করিয়ে দেওয়া এবং আমাদের সংস্থাগুলোকেও সতর্ক থাকার জন্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।’ 
গত ১৫ অক্টোবর নৌ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

এদিকে এমনিতেই জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর মালিকানাধীন জাহাজকে জলসীমায় প্রবেশ কিংবা পণ্য পরিবহনের আড়ালে বন্দরের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর আগে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বহনকারী রাশিয়ার জাহাজকেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এর মাঝে ১৫ অক্টোবর নতুন করে চার দফা নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে নৌ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি দেশ থেকে কৌশলে জাহাজ এবং পণ্য এসেছে বলে অভিযোগ উঠায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরেই বছরে প্রায় ১২ কোটি মেট্রিক টন বাল্ক পণ্য এবং ৩২ লাখের বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। মূলত নিষেধাজ্ঞাবিহীন কূটনীতিক সম্পর্ক থাকা এবং বন্ধু প্রতীম দেশগুলো থেকেই এসব পণ্য আমদানি করা হয়।

রপ্তানিও হয় বৈধ দেশগুলোতে। কিন্তু নৌ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ জাহাজকে যেমন এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে, তেমনি পণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদন এবং গন্তব্য নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ার করা হয়। 

ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ জড়িয়া পড়ায় ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে রাশিয়া। আর রাশিয়ার ৬৯টি জাহাজকে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছিল আমেরিকা। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরও নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তবে নতুন করে আর কোনো নিষিদ্ধ জাহাজের তালিকা পায়নি বন্দর। নিষিদ্ধ জাহাজ এবং পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হলেও নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংকট এড়ানো যায় বলে মনে করছেন বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র ওমর ফারুক বলেন, ‘কোনো নিষিদ্ধ জাহাজ বা পণ্যের কোনো তালিকা আমরা পাইনি। তবে নৌ অধিদপ্তর থেকে একটি নির্দেশনা এসেছে। এমন বিষয় নিয়ে আমরা আগেও সজাগ ছিলাম এখনো সজাগ থাকবো।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দুটো জাহাজ নিষিদ্ধ দেশ থেকে পণ্য নিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা পায়নি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত দল। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এমন নির্দেশনা জারি করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত