ড্রেনের মুখ বন্ধ, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫২ এএম

রাজবাড়ীতে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন শহরের ভবানীপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার। বাড়ি পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। খোসপাঁচড়াসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ড্রেনের মুখ আটকে পানি বের হতে না পেরেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভবানীপুর লাল মিয়া সড়ক কবরস্থানের সামনে থেকে রাস্তার পাশ দিয়ে একটি সরু ড্রেন করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে ভবানীপুর মিলপাড়া, কবরস্থান, বড়লক্ষ্মীপুর-ড্রাই আইস ফ্যাক্টরির পেছনের মাঠের পানি বের হতো। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। বাকিটুকু ময়লা আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকে গত এক মাস ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নোংরা পানি বাড়িতে ওঠায় অনেকে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ গরু-ছাগল নিয়ে রেললাইনের পাশে আশ্রয় নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবানীপুর কবরস্থানের সামনে সরু ড্রেনের উৎসমুখ বালু দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ড্রেনের শেষ মাথা পান্না চত্বর ইউমার্কেটে শেষ হয়েছে। ইউমার্কেট সংলগ্ন ড্রেনের শেষ মাথায় ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে পানি আটকে গেছে। পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের মিলপাড়া এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাড়ি-ঘরের চারপাশে পানি জমে আছে। নিচু ঘরগুলো কিছুটা পানির নিচে। অনেকেই রেললাইনের পাশে পলিথিনের তাঁবু বানিয়ে গরু-ছাগল রাখার জায়গা বানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমি এখানে ত্রিশ বছর ধরে বসবাস করছি। কিন্তু এ রকম জলাবদ্ধতা কখনো হয়নি। ড্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। গরু ছাগল নিয়ে আমরা আপাতত রেলরাস্তায় উঠেছি। রান্নাবান্না খাওয়া দাওয়া বন্ধ। পানির মধ্যে চলাচল করার কারণে হাত পায়ে ঘাঁ হয়ে যাচ্ছে।’

আব্দুর রহিম ডাবলু বলেন, ‘ভবনীপুরের এই ড্রেনটি পরিষ্কার না করার কারণে বৃষ্টি হলেই এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। আমার বাড়ির চারপাশে পানি। বাড়ি থেকে বের হতে হলে হাঁটু পানি ডিঙিয়ে বের হতে হয়। আমরা পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও পানিবন্দি হয়ে আছি।’

রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএস আলী খান বলেন, ‘রাজবাড়ীর বেশিরভাগ ড্রেনই অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। অনেক ডোবাই ভরাট হয়ে গেছে। সে কারণে এখন আর পানি বের হতে পারছে না। ডোবাগুলো উদ্ধার করা গেলে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান  করা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত