আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর গণতন্ত্রের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের কাছে হেরে যান তাহলে রিপাবলিকানরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ডেমোক্র্যাট ও ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো যখন আমেরিকানরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেশির ভাগ জরিপে দেখা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যার বেশিরভাগই দুদোল্যমান রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত। তাদের এসব জরিপেই মূলত ট্রাম্পকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ার পূর্বাভাস তার সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে বলেও জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার নিউ মেক্সিকোতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সব জরিপেই আমরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছি। সুইং স্টেট নর্থ ক্যারোলাইনায় পৃথক এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে এটি একটি হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।’
ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালীরাও হ্যারিসের পরাজয়ের পূর্বাভাস দিয়ে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন। যা ট্রাম্পের অনিবার্য বিজয়ের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জিওপি-সমর্থিত পোলিং গ্রুপগুলো প্রচারণার শেষ পর্যায়ে ৩৭টি জরিপ প্রকাশ করেছে এমন এক সময়ে যখন দীর্ঘদিন ধরে চলা জরিপকারীরা তাদের জরিপ কমিয়ে দিচ্ছেন।
পোলিং বিশেষজ্ঞ নেট সিলভারের মতে এই নির্বাচন নিয়ে যারা আত্মবিশ্বাসী তারা এমন একজন, যার মতামতকে আপনার অগ্রাহ্য করা উচিত। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের কিছুটা গতি এসেছে।’
ডেমোক্র্যাট এবং কিছু পোলিং বিশেষজ্ঞ মনে করেন, রক্ষণশীল-কমিশন জরিপগুলো ট্রাম্পের পক্ষে মিথ্যে গল্প তৈরির লক্ষ্যে করা হয়েছে। যা হ্যারিস জিতলে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
‘রিপাবলিকানরা স্পষ্টতই কৌশলগতভাবে পোলিং করছে যাতে ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা যায় যে ট্রাম্প অনেক বেশি জনপ্রিয়। লোয়েলের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পাবলিক ওপিনিয়নের জোশুয়া ডাইক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘উত্তরটি সঠিকভাবে পাওয়ার জন্য তাদের উত্সাহ অগত্যা নয়।’
ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ এবং ব্লগার সাইমন রোজেনবার্গ বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে ২০২২ সালের কংগ্রেসনাল নির্বাচনের মতো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যখন রিপাবলিকানদের পক্ষে একের পর এক জরিপ বিশাল প্রত্যাশা তৈরি করেছিল যা ভোটের দিন বাস্তবায়িত হয়নি।’
‘সাধারণত স্বতন্ত্র জরিপের চেয়ে এই জরিপগুলোতে রিপাবলিকানরা দুই, তিন, চার পয়েন্ট বেশি ছিল,’ মেইডাসটাচ নিউজকে বলেন রোজেনবার্গ। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা আর বিচলিত হতে পারি না। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি প্রতারণা করে নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তার কাছে এমন তথ্য থাকা দরকার যে তিনি কোনোভাবে নির্বাচনে জিতছেন।’
তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনের দিন কিছু তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যেতে হবে, যদি তিনি হেরে যান। তাহলে তিনি বলতে পারবেন আমরা প্রতারণা করেছি।’
এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন চুরি করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন ট্রাম্প।
বোবায় ধরা কী, কেন হয়, মুক্তি পাবেন যেভাবে
‘সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে’ ঐশ্বরিয়াকে জয়া বচ্চন
চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিছিলে বাধার অভিযোগ
রিকান ছাড়া আমেরিকান বানান করতে পারবেন না, ট্রাম্পকে লোপেজ