এবারও রচিত হলো না ইতিহাস

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:১৫ পিএম

১৭৭৬ সালে যুক্তরাজ্যের কবল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই থেকে আজ প্রায় ২৫০ বছর পার হয়ে গেল তবুও কোনো নারী প্রেসিডেন্টের মুখ আমেরিকা দেখতে পায়নি। অর্থাৎ ক্ষমতায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র হয়েও কেন দেশটির নারীরা পিছিয়ে আছে তা অনেককেই বিস্মিত করে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনও নারীর নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার অবস্থায় আসেনি আমেরিকার জনগণ।

১৯১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে আমেরিকান নারীরা প্রথম ভোটের অধিকার পান। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রিপাবলিকান মার্গারেট চেস স্মিথ প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন। তিন দফায় যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। যেদিন মার্গারেট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দেন সেদিনই গণমাধ্যম সেটিকে নন সিরিয়াস বা তেমন গুরুতর নয় বলে সম্বোধন করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকায় নারীদের কাজ করার তেমন সুযোগ ছিল না। ষাটের দশকে নারী আন্দোলনের পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। তবে তখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নারী উপস্থিতি বাড়েনি। 

১৯৭৭ সালে করা এক মার্কিন জরিপ অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ জনগণ মনে করেন নারীরা আবেগি সিদ্ধান্ত নেয় এজন্য তাদের রাষ্ট্রপরিচালনায় না আসাই ভালো। এরপর মার্কিন রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে মার্কিনি নারীদের লড়াই চলতে থাকে। বড় পরিবর্তন আসে ২০০৮ সালে। ওই বছর ডেমোক্রেটিক হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। তিনি পুরুষদের মতো প্রচার চালাতে থাকেন। তখনও আমেরিকার গণমাধ্যম হিলারির সৌন্দর্য, গলার স্বর, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকে। ওই বছর প্রাইমারিতে বারাক ওবামার কাছে হেরে যান হিলারি। আট বছর পর হিলারি আগের মতো আর ভুল করেননি। এবার তিনি নারী হয়েই প্রচার চালাতে শুরু করেন। ওই বছর তিনি প্রাইমারিতে বার্নি স্যান্ডার্সকে হারিয়ে  হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পাওয়ার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। 

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম নারী প্রার্থী হন হিলারি ক্লিনটন। সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন তিনি। ৩০ লাখের বেশি পপুলার ভোট পেয়েও ইলেক্টোরাল কলেজের নিয়মে পরাজিত হন ট্রাম্পের কাছে। দেখা যায়, ট্রাম্প পুরুষ ভোট পান ৫২ শতাংশ আর হিলারি পান ৪১ শতাংশ। এবারও সবশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, পুরুষ ভোটারদের কাছে কমলার চেয়ে ট্রাম্পই জনপ্রিয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেবল নারী হওয়ায় বিদ্বেষের শিকার হন হিলারি। তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নারী নেতৃত্বকে মেনে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তার প্রমাণ, এরই মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড করেছেন কমলা।

তবে এবারের মার্কিন নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের হিসাবে কমলার চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। সবশেষ পাওয়া খবর অনুয়ায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৬৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস ১৯৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত