বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েল ইস্যুতে তা নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এ মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের নীতিকেই অনুসরণ করবেন।
নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিতের পর পরই সামাজিক মাধ্যম এক্সে ‘ইয়েসসস’ লিখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইসরাইয়েলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। এছাড়া প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের এ জয়ের ফলে ইসরায়েল ও আমেরিকার বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক একটি জরিপ অনুযায়ী, কমলা হ্যারিসের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পকে বেশি পছন্দ করেছেন। আর ইসরায়েলি ইহুদিদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। প্রায় ৭২ শতাংশ ইহুদিই মনে করেন, ট্রাম্প ইসরায়েলের স্বার্থ আরও ভালোভাবে পূরণ করবে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেবেন, যা সম্ভবত ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের পথ খুলে দেবে।
প্যানেট্টা আরও বলেন, ‘আসল প্রশ্ন হচ্ছে নেতানিয়াহু কি এই যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইরানের পেছনে লেগে যাবেন? নাকি এমন কিছু করবেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সমাধান করবে বা ক্রমাগত সংঘাতের মধ্যে থাকবে কিনা তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করবে।’ প্যানেট্টা অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্পকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বিবিসিকে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ ছিল ইসরায়েলের জন্য ‘দৃষ্টান্তমূলক’। তিনি বলেন, আশা করা যায় তিনি এটি পুনর্বিবেচনা করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প কিসের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সে সম্পর্কে আমাদের খুব স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।
‘সাবেক প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পছন্দ করেন না, এগুলোকে ব্যয়বহুল মনে করেন। গাজায় দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প,’ বলেন তিনি।
আল জাজিরাকে নেতানিয়াহুর সাবেক রাজনৈতিক সহযোগী ও জনমত জরিপকারী মিচেল বারাক জানান, ইসরায়েলিরা ট্রাম্পের বিজয়কে একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে মনে করছে।
এদিকে ট্রাম্পের বিজয়ে ইসরায়েলের অনেকেই মনে করছেন মার্কিন এই নেতা ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে একটি বড় বাধা হতে পারেন। কারণ হলো- ট্রাম্প ২০২০ সালে তার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যা অনেকের কাছে ইসরায়েলের প্রস্তাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল। এতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে স্বীকৃতি দেওয়া, জেরুজালেমকে ইসরাইলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের অধিকার অস্বীকার করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসায় এই পরিকল্পনাগুলো পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে চিরতরে অনিশ্চিত করে দিতে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওরি গোল্ডবার্গ আল জাজিরাকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প একই গণহত্যার এজেন্ডা ভাগ করে নেন। দুজনই ‘প্রগতিশীল জেগে ওঠা’ বা আইডেন্টিটি পলিটিক্সের বিরুদ্ধে।’
তবে গোল্ডবার্গ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যেভাবে দেখেন তাতে তিনি কিছুটা অদূরদর্শী হতে পারেন।’ গোল্ডবার্গ বলেন, ‘নেতানিয়াহু যা খুশি তাই করবেন, যেমনটা তিনি সব সময় করে এসেছেন।’
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বিবিসিকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি ও ইরানের প্রভাব নিয়ন্ত্রণসহ ট্রাম্পকে সহযোগিতা করলে সামনে ‘অসাধারণ অর্জন’ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আসিফ নজরুলের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পরিণতি ভোগ করতেই হবে
খুব ভয় লাগছে: ঋতুপর্ণা
আসিফ নজরুলকে হেনস্তা আ. লীগের স্বৈরাচার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ: মান্না