মানুষ হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ। বর্তমান বিশ্বে এ জাতীয় নৃশংসতা খুবই বেমানান। মূর্খতার যুগের মতো এ যুগে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অর্থ হলো, আমরা এখনো সভ্য মানুষ হতে পারিনি। আর একেকটি নৃশংসতা যেন আদিকালের বর্বরতাকেও হার মানায়। সভ্যতার এ যুগেও আমরা যদি ভদ্রতা ও মনুষ্যত্ববোধ অর্জন করতে না পারি, তবে সত্যিকার অর্থে আমরা এখনো মানুষ হতে পারিনি। চারদিকে লড়াই, ঝগড়া, মারামারি ও হানাহানির ছড়াছড়ি। কেন আমাদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ও জানমালের নিরাপত্তা নেই? আফসোস, আমরা এত নিষ্ঠুর কীভাবে হয়ে উঠছি দিন দিন? পাঁচ টাকার জন্যও মানুষ হত্যা করার সংবাদ আমরা শুনেছি। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও ছেপেছে। মৃত্যু এখন এতই সহজ হয়ে গেছে যে, মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। দাম নেই কোনো তাজা প্রাণের। তবে হ্যাঁ, এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমরা সত্যিকারের মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বঞ্চিত এক ভয়াবহ সমাজে বসবাস করছি। যেখানে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। দাম নেই কারও জীবনের। যদিও আমাদের মাঝে শিক্ষা-দীক্ষার যাবতীয় আয়োজন রয়েছে। কিন্তু মানুষ হওয়ার প্রকৃত শিক্ষা যেন নেই।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামাত হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে। অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে। সময় সংকুচিত হয়ে আসবে। ফেতনা প্রকাশ পাবে এবং খুন-খারাবি বৃদ্ধি পাবে। তখন তোমাদের ধন-সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, তা উপচে পড়বে। (সহিহ বুখারি) এই হাদিসে বর্ণিত প্রায় সব আলামতই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তার মধ্যে খুন-খারাবি অন্যতম একটি বিষয়। তবে কি পৃথিবীর আয়ুও ফুরিয়ে আসছে? আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি (জঘন্য পাপ) এবং হত্যা করা বা তার সঙ্গে লড়াই করা হচ্ছে কুফরি। (সহিহ বুখারি)
আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানবজাতি। সুতরাং আল্লাহর সৃষ্টিকে বিনা কারণে হত্যা করা কিংবা ঠুনকো কারণে হত্যা করার অপরাধ তো সামান্য কোনো অপরাধ নয়। ওলামায়ে কেরাম এমন অন্যায় হত্যাকে কবিরা গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। আর একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে যাওয়ার জন্য কারণ হবে। রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘আজকের এই মাস এবং এই শহরের মতো তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদও পবিত্র ও সুরক্ষিত।’ কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত কিংবা তার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো ফেতনা-ফাসাদ বিস্তার ব্যতীত। তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেলল। আর যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করল, তাহলে সে যেন সব মানুষকে রক্ষা করল। (সুরা মায়েদা ৩২)
