'আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর গেজেট জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে আইনের সংশোধন ও বিদ্যমান আইনে কী কী পরিবর্তন হয়েছে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনের করে প্রসিকিউশন শাখা।
এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে করা যেসব মামলা চলছিল, তা সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেও চলবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে বলে দেওয়া হয়েছে যে এ সংশোধনী ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর হবে।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও বিচারের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনটি সংশোধন করে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে এবং আসামি ও ভুক্তভোগীদের সকল প্রকার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক মান করার জন্য এ সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনে যেসব দুর্বলতা ছিল ও আন্তর্জাতিকভাবে যে প্রশ্নগুলো আইনটি সম্পর্কে তোলা হতো, সেসবের সমাধান করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,‘আগের আইনে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে মানবতবিরোধী অপরাধ করলে বিচার হতো। এখন দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে থেকে কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে এই আইনে বিচার করা যাবে। আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো বিদেশি যদি এই আইনে অপরাধ করে তাহলে তাকেও বিচারের আওতায় আনা যাবে।’
বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিডিংসের আগে ‘ডিফেন্সকে (আসামিপক্ষ) তা প্রস্তত করতে আগে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয়েছে। আগে প্রসিকিউশন সীমিত নথিপত্র ডিফেন্সকে দিতে পারত, এখন আদালতের অনুমতি নিয়ে যেকোনো নথিপত্র চাইলে পাবে।’এ ছাড়া আগে অভিযোগের শুনানির সময় আসামিপক্ষকে তার সব সাক্ষীর (সাফাই সাক্ষী) নাম বা তালিকা দিতে হতো। এখন বিচারের যেকোনো সময় সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পারবে ডিফেন্স।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্যের (মেম্বার অব আর্মড ফোর্স) বিরুদ্ধে আগে ওই আইনে বিচার করা যেত। এখন সংশোধিত আইনে মেম্বার অব ডিসিপ্লিনারি ফোর্স বা তিন বাহিনীর সঙ্গে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও আনসার বাহিনীকেও এখানে যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে গুমের অপরাধে বিশেষভাবে এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগের আইনে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। সংশোধিত আইনে এ বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধীর যদি সম্পদ থাকে, কিংবা রাষ্ট্র থেকে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।
আইনের কিছু পরিবর্তনের কারণে মামলার বিচারকাজে বিলম্ব হবে কি না- এমন প্রশ্নে গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘সেটির সেফগার্ড (নিরাপত্তা) এখানে রাখা হয়েছে। আসামি ও ডিফেন্সকে সব সুবিধা দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে যে, বিচারে যেন অযৌক্তিক বিলম্ব যেন না হয়, সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, বিচারের কোনো পর্যায়ে যদি বোঝা যায় যে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এ আইনের আওতায় পড়ে না, তবে ট্রাইব্যুনাল তা নিয়মিত আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারেন।
লোহিত সাগরে মিশরের প্রমোদতরী ডুবে ১৭ পর্যটক নিখোঁজ
বিদ্যুৎ-সড়ক বিচ্ছিন্নের ঘোষণায় আতঙ্কে মধুমতি মডেল টাউনের বাসিন্দারা
চিন্ময় দাশকে গ্রেপ্তার বিষয়ে যা জানালেন প্রেস সচিব