সংস্কারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া হওয়ার পরই নির্বাচন: মাহফুজ আলম

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৪২ পিএম

সংস্কারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া হওয়ার পরই নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের জন্য সব কার্যক্রম চলছে। তবে নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনের কথা বলেছে। নির্বাচনী উদ্যোগ হিসেবে সার্চ কমিটি হয়েছিল, কমিশন গঠন হয়েছে, কমিশনাররা শপথ নিয়েছেন এবং অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান আছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ যেজন্য জীবন দিয়েছেন সেই সংস্কারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া হওয়ার পরই নির্বাচন হবে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো আসুক। আর নির্বাচন কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, তারা ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ যা যা কাজ আছে তা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ঠিক হবে।’

দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়গুলো আমরা গভীর নজরে দেখছি। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। আগামীতে যেন দেশে আর সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা খুব স্বল্প সময়ে উদ্যোগ নেবো। দেশে যে উত্তেজনা-উন্মত্ততা রয়েছে। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসে সমাধান করতে পারবো। আমরা সকলের সমর্থন কামনা করছি।

ইস্কন নিষিদ্ধ করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ করা বা নিবন্ধন বাতিল করার মতো যেকোনো আইনি উদ্যোগই নেওয়া হোক না কেন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আমরা করতে চায়। যাতে কোনো পক্ষের দিক থেকে অনিশ্চয়তা বা সংকট তৈরি না হয়। সুষ্ঠু তদন্তের পর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে উপদেষ্টা কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রুখে দিতে প্রধান উপদেষ্টা সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুদিনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যে বৈঠক করেছেন তাতে দুই দলের নেতারাই বাংলাদেশের সামগ্রিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের কথা বলেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে কীভাবে কাজ করা যায় তা বলেছেন। যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা-উম্মত্ততা কীভাবে রুখে দেওয়া যায় সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দুটি দলই বিভিন্ন ইতিবাচক প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আগের মতোই সরকারকে সহযোগিতা করার অবস্থান ব্যক্ত করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত