পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে ইসলামাবাদে জমায়েতকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ইমরান খানের চূড়ান্ত ডাক কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীতে জড়ো হয়েছিলেন পিটিআইয়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী। ইসলামাবাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ডি-চকে সমাবেশে পরিকল্পনা ছিল পিটিআই এর। এ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পিটিআই কর্মীদের। এতে হতাহত হয়েছে হাজারো নেতাকর্মী। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য ও পিটিআই এর ৮ সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বুধবার কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কর্মীদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। এটিকে পিটিআই এর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে সে নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। পিটিআই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গাড়িবহর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে গিয়েছিল। তবে ইসলামাবাদ থেকে জ্যেষ্ঠ নেতা আলী আমিন গান্দাপুর ও ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির পিছু হাঁটার ঘটনায় পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব ভীষণ চাপে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দলটির কোনো দাবিই পূরণ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পিটিআই কীভাবে সংগঠিত হবে, সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এমনকি শীর্ষ নেতাদের বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করার বিষয়টি পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাইঘাম খান বলেন, এভাবে বিক্ষোভ ধসে পড়া দলটির রাজনৈতিক কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। লাহোরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেনজির শাহ বলেন, ইমরান খানের মুক্তির জন্য আরেকটি বড় আকারের বিক্ষোভ শুরু করা এ মুহূর্তে পিটিআইয়ের জন্য প্রশ্নাতীত বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, পিটিআইকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়া ও জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলা একটি বিকল্প কৌশল হতে পারে। মানবাধিকার ও সামাজিক ইস্যু সামনে রেখে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দিকে যাওয়া উচিত দলটির।
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের দাবি করা হলেও সরকার বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র রানা আফজাল বলেন, বিক্ষোভে পিটিআই সমর্থকরা সশস্ত্র ছিলেন। মানুষের সহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ইসলামাবাদের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক আহমেদ ইজাজ বলেন, বিক্ষোভস্থল থেকে হঠাৎ এভাবে বুশরা বিবি ও আলী আমিন গান্দাপুরের সরে আসার ঘটনা দলের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করবে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইসলামাবাদে অস্থিরতার পেছনে বুশরা বিবিকে দায়ী করেছেন। তবে দল এখন কী করবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান পিটিআই নেতা সাঈদ জুলফি বুখারি।
