যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এটিএসিএমএস ব্যবহার করে আবারও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এবার কুরস্ক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা পাঁচটি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে রাশিয়ার এমন স্বীকারোক্তির ঘটনা খুবই বিরল। হামলার এক দিন পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় একটি রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রুশ ভূখণ্ডে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আছে। এর আগে গত মঙ্গলবারের হামলার বিষয়ে রাশিয়া প্রথমে বলেছিল, বিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন টুকরা পড়ে একটি সামরিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এস-৪০০ ধ্বংস করে দেওয়ার এ ঘটনাকে বেশ গুরুতর হিসেবে ধরা হচ্ছে। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সমকক্ষ ধরা হয়। গত সপ্তাহে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইউক্রেনকে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। যুদ্ধে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন করায় ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের তৈরি বিশেষ এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে বলা হচ্ছে। জবাবে রাশিয়া গত সপ্তাহে নতুন মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক ব্যবহার করে ইউক্রেনের নিপ্রো শহরে হামলা চালায়।
এদিকে, ইউক্রেনের জ¦ালানি অবকাঠামোতে চলতি মাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবারের হামলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী জেরমান গালুশেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার সময় ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে জরুরি বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করেছে জাতীয় গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনার্গো। প্রধান বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভসহ ওডেসা, দিনিপ্রোপ্রেট্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের ওপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রভাব পড়েছে। রাশিয়া এর আগে দেশটির জ¦ালানি অবকাঠামোর ওপর ১০টি বড় হামলা চালিয়েছে। ওইসব হামলায় পুরো খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও শীতকাল আসার আগে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বৃহস্পতিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন বলে বলে জানান গভর্নর ওলেক্সান্দার কোভাল। এ ছাড়া হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বিঘœ ঘটার কথা জানান তিনি। তবে ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য দেনননি। পশ্চিমাঞ্চলীয় লুটস্ক শহরের মেয়র বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কথা জানিয়ে বলেন, পানি ও তাপ সরবরাহের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎসংযোগ চালু করা হয়েছে। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনিয়েহুবভ বলেছেন, শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ও একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধে ইউক্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর দিমিত্রি পলিয়ান্সকিয়ি বলেছেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কিয়েভের প্রতি সমর্থন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা হবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার সমতুল্য।
