আইনজীবী সাইফুল হত্যায় ২ আসামি রিমান্ডে 

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৪০ পিএম

চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে রঙ্গম কনভেনশন হল এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি চন্দন দাসের ৭ দিন এবং রিপন দাসের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পুলিশ উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুজনের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত চন্দন দাসের ৭ দিন এবং রিপন দাশের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে রিপন দাশকে (২৭) ও বুধবার রাতে ভৈরব থেকে চন্দন দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) তারেক আজিজ জানিয়েছিলেন, রিপন দাশ আইনজীবী হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি নয়। তবে হত্যাকাণ্ডের ফুটেজে নীল গেঞ্জি পরিহিত রিপনকে বটি হাতে দেখা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আনোয়ারায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি পুলিশ।

আইনজীবী সাইফুল হত্যায় যে ব্যক্তি কিরিচ হাতে অংশ নিয়েছিলেন, তিনিই চন্দন। এ হত্যা মামলায় ১১ জন জন গ্রেপ্তার হলো।

দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই পুরো আদালত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আদালত ভবনে স্লোগান দিতে থাকেন অন্যান্য সাধারণ আইনজীবীরা। এ সময় তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনকেও নিষিদ্ধের দাবি জানান।

গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে।

এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা এবং ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালী থানায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত